বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপমুখী অভিবাসনের প্রবণতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। উন্নত জীবনমান, স্থিতিশীল অর্থনীতি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং তুলনামূলক ভালো আয়ের আশায় হাজার হাজার বাংলাদেশি প্রতিবছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। এই তালিকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে দেশটির নাম দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, সেটি হলো ক্রোয়েশিয়া।
অনেকে কাজের উদ্দেশ্যে, আবার অনেকে পড়াশোনার পাশাপাশি আয়ের সুযোগ খুঁজতে ক্রোয়েশিয়া যেতে চান। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা জরুরি—ক্রোয়েশিয়া বেতন কত, কোন সেক্টরে কাজের সুযোগ বেশি, সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো কেমন, এবং ২০২৬ সালে ক্রোয়েশিয়ার ওয়ার্ক পারমিট ভিসার নিয়মকানুন কী।
ক্রোয়েশিয়া বেতন কত?
ক্রোয়েশিয়ার কাজের বেতন নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের উপর—
- কাজের ধরন
- কর্মীর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা
- কোম্পানির আকার ও অবস্থান
- ওভারটাইম ও অতিরিক্ত শিফট
বর্তমানে ক্রোয়েশিয়ায় একজন বিদেশি কর্মীর গড় মাসিক বেতন বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। কিছু পেশায় এই অঙ্ক আরও বেশি হতে পারে।
ক্রোয়েশিয়া সর্বনিম্ন বেতন কত?
সামাজিক ভারসাম্য ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় ক্রোয়েশিয়া সরকার সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো কঠোরভাবে অনুসরণ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে ক্রোয়েশিয়ার ন্যূনতম বেতন মধ্যম স্তরে অবস্থান করছে।
বর্তমান সর্বনিম্ন বেতন
- প্রায় ৯৭০ ইউরো (গ্রস)
- নেট হিসেবে হাতে পাওয়া অর্থ কিছুটা কম হতে পারে, তবে জীবনযাত্রার খরচের তুলনায় এটি গ্রহণযোগ্য
প্রতিবছর সরকার শ্রমবাজারের পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি করে থাকে।
ক্রোয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ২০২৬
২০২৬ সালে ক্রোয়েশিয়ায় কাজ করতে চাইলে অবশ্যই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা থাকতে হবে। এটি এক ধরনের রেসিডেন্স ও ওয়ার্ক পারমিট, যা বিদেশি নাগরিকদের বৈধভাবে কাজ ও বসবাসের সুযোগ দেয়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- বৈধ পাসপোর্ট
- কাজের অফার লেটার
- ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
- মেডিকেল রিপোর্ট
- আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ
প্রসেসিং সময়
- সাধারণত ১৫ দিন থেকে ২ মাস
- কাগজপত্র ঠিক থাকলে সময় কমও লাগতে পারে
ভিসার মেয়াদ
- সাধারণত ১ বছর
- পরবর্তীতে নবায়নের সুযোগ রয়েছে
ক্রোয়েশিয়া কোন কাজের চাহিদা বেশি?
বর্তমানে ক্রোয়েশিয়ার অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন ও পর্যটন খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।
নির্মাণ খাত
- রাজমিস্ত্রি
- রংমিস্ত্রি
- কাঠমিস্ত্রি
- ইলেকট্রিশিয়ান
- প্লাম্বার
- সহকারী শ্রমিক
সেবা ও পর্যটন খাত
- হোটেল স্টাফ
- ওয়েটার
- ক্লিনার
- কিচেন হেল্পার
অন্যান্য খাত
- কৃষি শ্রমিক
- প্যাকেজিং কর্মী
- ফুড ডেলিভারি
- রাইড শেয়ারিং ড্রাইভার
ক্রোয়েশিয়া কোন কাজের বেতন বেশি?
বেতন সাধারণত দক্ষতার সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। যেসব কাজে অভিজ্ঞতা ও টেকনিক্যাল জ্ঞান প্রয়োজন, সেসব পেশায় আয় তুলনামূলকভাবে বেশি।
বেশি বেতনের কাজ
- ইলেকট্রিশিয়ান
- প্লাম্বার
- অভিজ্ঞ রাজমিস্ত্রি
- ট্যাক্সি ও ডেলিভারি ড্রাইভার
- হোটেল সুপারভাইজার
- বিক্রয় প্রতিনিধি
এই পেশাগুলোতে অভিজ্ঞতা থাকলে বেতনের পাশাপাশি ওভারটাইম ও বোনাসের সুযোগও থাকে।
শেষ কথা
বাংলাদেশ থেকে ক্রোয়েশিয়া যাওয়ার আগে ক্রোয়েশিয়া বেতন কত, কোন কাজের চাহিদা বেশি, এবং ভিসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক তথ্য, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং বৈধ উপায়ে আবেদন করলে ক্রোয়েশিয়া হতে পারে আপনার ইউরোপ যাত্রার একটি শক্ত ভিত্তি।



