বর্তমান সময়ে বদহজম, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব, গা গুলানো ইত্যাদি সমস্যা খুবই সাধারণ। এসব সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শে যে ওষুধটি প্রায়ই দেওয়া হয়, তার একটি হলো Domperidone।
Domperidone 10 mg কিসের ওষুধ
Domperidone একটি ডোপামিন (D2) রিসেপ্টর ব্লকার যা পাকস্থলীর গতিশীলতা (gastric motility) বাড়ায় এবং বমি বমি ভাব ও বমি কমাতে সাহায্য করে। এটি গ্যাস্ট্রিক খালি হতে সাহায্য করে, ফলে পেট ফাঁপা, ঢেকুর, অজীর্ণ কমে।
প্রধান ব্যবহার:
- বমি বমি ভাব ও বমি প্রতিরোধ
- পেট ফাঁপা, ঢেকুর, অজীর্ণ
- ফাংশনাল ডিসপেপসিয়া (ulcer ছাড়া অজীর্ণ)
- গ্যাস্ট্রিক খালি হতে দেরি হলে (gastroparesis)
Domperidone কীভাবে কাজ করে?
- পাকস্থলীর নড়াচড়া বাড়ায়
- খাবার দ্রুত নিচে নামতে সাহায্য করে
- মস্তিষ্কের বমি কেন্দ্রকে দমন করে
Domperidone কখন খাবেন? (খাবার আগে না পরে?)
সর্বোচ্চ কার্যকারিতার জন্য:
- খাবারের ১৫–৩০ মিনিট আগে
- প্রয়োজনে রাতে ঘুমের আগে
সাধারণ ডোজ (প্রাপ্তবয়স্ক)
- সাধারণত 10 mg, দিনে ৩ বার (খাবারের আগে)
- সর্বোচ্চ দৈনিক ডোজ সাধারণত 30 mg অতিক্রম করা উচিত নয় (চিকিৎসক না বললে)
শিশু, বয়স্ক, লিভার/হার্টের রোগীদের ডোজ আলাদা হতে পারে।
উপকারিতা
- বমি বমি ভাব কমায়
- পেট ফাঁপা ও ঢেকুর কমায়
- অজীর্ণ ও পেট ভার কমায়
- গ্যাস্ট্রিক খালি হতে সহায়তা করে
বেশি খেলে কী হতে পারে? (পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া)
- মুখ শুকানো
- মাথাব্যথা, ঝিমুনি
- ডায়রিয়া
- ত্বকে র্যাশ/চুলকানি
- রক্তে প্রোল্যাকটিন বাড়তে পারে (স্তনে টান, দুধ ক্ষরণ)
- বিরল হলেও হার্টের রিদমের সমস্যা (QT prolongation, arrhythmia) হতে পারে
হার্টের রোগী, ইলেক্ট্রোলাইট সমস্যা, বা QT prolongation ঝুঁকি থাকলে বিশেষ সতর্কতা দরকার।
কারা সাবধানে/এড়িয়ে চলবেন
- হার্টের রিদমের সমস্যা আছে
- লিভারের গুরুতর রোগ
- QT prolongation করে এমন ওষুধ একসাথে খাচ্ছেন
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গর্ভবতী/স্তন্যদানকারী মা
দাম সম্পর্কে
বিভিন্ন কোম্পানির Domperidone 10 mg ট্যাবলেট বাংলাদেশে স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায়। সঠিক দাম ব্র্যান্ড ও ফার্মেসি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
নিজে নিজে দীর্ঘদিন Domperidone খাবেন না। ৩–৫ দিনের বেশি প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, কারণ উপসর্গের পেছনে অন্য রোগ (GERD, আলসার, সংক্রমণ) থাকতে পারে।
শেষ কথা
Domperidone মূলত বমি বমি ভাব, অজীর্ণ, পেট ফাঁপা কমাতে কার্যকর। তবে ডোজ, সময় ও সতর্কতা মেনে না খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে—বিশেষ করে হৃদ্যন্ত্রের ঝুঁকি। তাই চিকিৎসকের পরামর্শই সর্বোত্তম



