সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণের দাম কত টাকা ২০২৬

স্বর্ণ—এই ছোট্ট শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে আভিজাত্য, নিরাপত্তা, ঐতিহ্য আর ধর্মীয় দায়িত্বের এক অনন্য সমন্বয়। যুগে যুগে মানুষের জীবনযাত্রা, সামাজিক রীতি এবং আর্থিক ব্যবস্থায় স্বর্ণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে স্বর্ণ কেবল একটি মূল্যবান ধাতু নয়; এটি আবেগ, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণ পাওয়া যায়—১৮ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ২২ ক্যারেট এবং সর্বোচ্চ বিশুদ্ধতার প্রতীক ২৪ ক্যারেট। এই ক্যারেটভেদেই স্বর্ণের দাম নির্ধারিত হয়, পাশাপাশি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রয়েছে পার্থক্য। সাধারণভাবে বলা যায়, ক্যারেট যত বেশি, স্বর্ণ তত বেশি বিশুদ্ধ এবং তার মূল্যও তত বেশি। তবে ব্যবহারিক দিক বিবেচনায় সব ক্যারেটের স্বর্ণ সমানভাবে জনপ্রিয় নয়।

এই দীর্ঘ আলোচনায় আমরা জানব—বাংলাদেশে স্বর্ণের বিভিন্ন ক্যাটাগরি, সেগুলোর ব্যবহারিক গুরুত্ব, সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণের মূল্য, যাকাতের হিসাব, তোলা-ভরি-গ্রামের সম্পর্ক এবং কেন সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ মুসলমানদের জীবনে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিমাপ।

সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণের দাম কত

স্বর্ণের দাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজার, ডলার-টাকার বিনিময় হার, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা—সবকিছু মিলিয়েই স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়। বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)

বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী বিভিন্ন ক্যারেটের সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণের দাম আলাদা আলাদা।

২২ ক্যারেট সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণের দাম

২২ ক্যারেট স্বর্ণ বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। গহনা তৈরিতে এর জনপ্রিয়তা সর্বাধিক। কারণ—

  • এটি যথেষ্ট বিশুদ্ধ
  • টেকসই ও মজবুত
  • দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য

এই চাহিদার কারণেই ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম তুলনামূলক বেশি থাকে। বর্তমান বাজার অনুযায়ী—

২২ ক্যারেট সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণের মূল্য: ৮,৩২,৮০৯ টাকা

এই দামের মধ্যে মজুরি ও ভ্যাট যুক্ত না থাকতে পারে, যা গহনা কেনার সময় আলাদা করে যোগ হয়।

২১ ক্যারেট সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণের দাম

২২ ক্যারেটের পরেই যে ক্যারেটটি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, সেটি হলো ২১ ক্যারেট। এটি দেখতে তুলনামূলক বেশি চকচকে এবং আধুনিক ডিজাইনের গহনার জন্য বেশ উপযোগী।

২১ ক্যারেট স্বর্ণে প্রতি ভরিতে প্রায় ১৪ আনা খাঁটি স্বর্ণ থাকে। সেই হিসেবে—

  • সাড়ে সাত তোলায় থাকে প্রায় ১০৫ আনা বিশুদ্ধ স্বর্ণ

বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী—

২১ ক্যারেট সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণের মূল্য: ৭,৮৬,৪৪২ টাকা

১৮ ক্যারেট স্বর্ণ ও এর ব্যবহার

যদিও যাকাতের হিসাব সাধারণত ২১ বা ২২ ক্যারেটের ভিত্তিতে করা হয়, তবুও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের ব্যবহারও কম নয়। আধুনিক ডিজাইনের গহনা, ডায়মন্ড সেটিং বা হালকা অলংকারে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

এর দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

সাড়ে সাত তোলা সমান কত ভরি

বাংলাদেশে স্বর্ণ কেনাবেচায় তোলা এবং ভরি—এই দুইটি শব্দই বহুল ব্যবহৃত। অনেকেই মনে করেন এগুলো আলাদা, কিন্তু বাস্তবে—

১ তোলা = ১ ভরি

অর্থাৎ—সাড়ে সাত তোলা = সাড়ে সাত ভরি

এগুলো মূলত একই ওজনের ভিন্ন নাম।

সাড়ে সাত তোলা সমান কত গ্রাম

বর্তমান সময়ে ডিজিটাল ওজন যন্ত্রের কারণে গ্রাম ও কেজির ব্যবহার বেড়েছে। তাই অনেকেই জানতে চান—

  • ১ তোলা স্বর্ণ = ১১.৬৬৪ গ্রাম

সেই হিসেবে—সাড়ে সাত তোলা = ৮৭.৪৮ গ্রাম (প্রায়)

এই হিসাবটি যাকাত নির্ধারণ, স্বর্ণ বিক্রি বা আন্তর্জাতিক মানের সাথে তুলনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ কথা

স্বর্ণ আমাদের জীবনে কেবল অলংকার নয়—এটি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা এবং ধর্মীয় দায়িত্বের প্রতীক। বিশেষ করে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ মুসলমানদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। কারণ এর সাথেই জড়িয়ে আছে যাকাতের ফরজ বিধান।

যদি আপনার কাছে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা এর সমমূল্যের সম্পদ এক বছর স্থায়ী থাকে, তবে যাকাত আদায় করা আপনার দায়িত্ব। সঠিক জ্ঞান ও হিসাবই পারে আপনাকে এই দায়িত্ব পালনে সহায়তা করতে।আশা করি এই বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে স্বর্ণের ক্যারেট, মূল্য, পরিমাপ এবং যাকাত সংক্রান্ত সকল প্রশ্নের উত্তর আপনি পেয়েছেন।.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top