বিশ্ববিখ্যাত সুইস ঘড়ি ব্র্যান্ড রোলেক্স দীর্ঘদিন ধরেই বিলাসিতা, স্ট্যাটাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। ২০২৬ সালেও এ ব্র্যান্ড আবারও তাদের কিছু নির্বাচিত মডেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে সোনার তৈরি ও প্রিমিয়াম মডেলগুলোর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ঘড়িপ্রেমী ও সংগ্রাহকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এ প্রবন্ধে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো—২০২৬ সালে রোলেক্স ঘড়ির মূল্যবৃদ্ধির হার, কোন মডেলগুলোতে এর প্রভাব পড়েছে, এ বৃদ্ধির পেছনের প্রধান কারণ, এবং ভবিষ্যতে এ দামের গতিপথ কেমন হতে পারে।
২০২৬ সালে রোলেক্স ঘড়ির দাম বৃদ্ধির হার
প্রতি বছরের মতোই ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে রোলেক্স তাদের ঘড়ির মূল্য পুনঃনির্ধারণ করেছে। তবে এ বছর সোনার তৈরি মডেলগুলোতে দাম ৮% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
- গত বছর যেখানে দাম বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল,
- সেখানে ২০২৬ সালে এটি অনেক বেশি প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষ করে হলুদ সোনার ডে-ডেট মডেল এবং জিএমটি-মাস্টার II মডেলের দাম এক লাফে কয়েক হাজার ইউরো বেড়ে গেছে।
বর্তমানে রোলেক্স ঘড়ির দাম কোথা থেকে শুরু
রোলেক্স ঘড়ির প্রাথমিক মডেলগুলোর দাম এখনো তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী স্তরে শুরু হলেও বিলাসবহুল সংস্করণগুলোর ক্ষেত্রে দাম অনেক উঁচুতে পৌঁছে গেছে।
- শুরু মূল্য: প্রায় ৬,৯০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬,৩০০ ইউরো)।
- প্রিমিয়াম মডেল: সোনার ও বিশেষ সংস্করণের ঘড়ির দাম এখন প্রায় ৪৪,২০০ ইউরো (প্রায় ৪৭,০০০ মার্কিন ডলার) পর্যন্ত পৌঁছেছে।
এতে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, রোলেক্স তাদের পোর্টফোলিওতে বিভিন্ন বাজেটের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বিকল্প রাখলেও, উচ্চবিত্ত গ্রাহকদের জন্য এর দাম ক্রমশ বাড়ানো হচ্ছে।
বিশেষ মডেলের দাম বৃদ্ধির উদাহরণ
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে বেশ কিছু রোলেক্স মডেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
- হলুদ সোনার ডে-ডেট মডেল
- পুরোনো দাম: ৪১,০০০ ইউরো
- নতুন দাম: ৪৪,২০০ ইউরো
- জিএমটি-মাস্টার II মডেল
- পুরোনো দাম: ৪১,০০০ ইউরো (প্রায়)
- নতুন দাম: ৪৪,৬০০ ইউরো
এ ধরণের দাম বৃদ্ধি শুধু সংগ্রাহকদেরই নয়, বরং সাধারণ ঘড়িপ্রেমীদেরও আলোচনায় এনেছে।
রোলেক্স ঘড়ির দাম বৃদ্ধির মূল কারণ
রোলেক্স সাধারণত প্রতি বছর তাদের দাম পুনঃমূল্যায়ন করে থাকে। তবে ২০২৬ সালের মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো সোনার বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।
- ২০২৪ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতার কারণে সোনার দাম প্রায় ৩০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল।
- এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সোনার তৈরি বিলাসবহুল ঘড়িগুলোর উপর।
তাছাড়া, বিশ্বব্যাপী উচ্চ চাহিদা, সীমিত উৎপাদন, এবং ব্র্যান্ডের বাজার অবস্থানও দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
রোলেক্স ঘড়ির বিশেষত্ব কেন এগুলো এত দামী?
রোলেক্স ঘড়িকে শুধু সময় মাপার যন্ত্র বলা ভুল হবে। এটি আসলে একধরনের স্ট্যাটাস সিম্বল বা সামাজিক মর্যাদার প্রতীক।
রোলেক্সকে আলাদা করে তোলে যে বিষয়গুলোঃ
- কারিগরি দক্ষতা: প্রতিটি ঘড়ি তৈরি হয় নিখুঁত হাতের কাজে এবং উচ্চমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে।
- উপকরণের গুণগত মান: ১৮ ক্যারেট সোনা, প্লাটিনাম, ও বিশেষ স্টিল ব্যবহার করা হয়।
- ডিজাইন ও ঐতিহ্য: কালজয়ী নকশা, যা দশকের পর দশক ধরে স্টাইলিশ থাকে।
- প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন: পানিরোধক (Oyster Case), স্বয়ংক্রিয় মুভমেন্ট, এবং ক্রোনোমিটার সার্টিফায়েড মেশিনারি।
এ কারণে রোলেক্স শুধু একটি ঘড়ি নয়, বরং একটি লাক্সারি অ্যাসেট—যা অনেক সময় বিনিয়োগ হিসেবেও বিবেচিত হয়।
শেষ কথা
রোলেক্সের ঘড়ির দাম বৃদ্ধি শুধু বিলাসদ্রব্যের বাজারকেই প্রভাবিত করছে না, বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বিনিয়োগের প্রবণতারও প্রতিফলন। ২০২৬ সালে ৮% পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির পরও ব্র্যান্ডটির জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি, বরং আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।রোলেক্স এখন আর শুধু একটি ঘড়ি নয়—এটি হলো প্রত prestiger, luxury এবং বিনিয়োগের এক অনন্য সমন্বয়।”



