বাংলাদেশে দ্রুত ও সহজে ভাত রান্নার জন্য রাইস কুকার এখন এক অপরিহার্য গৃহস্থালি যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। একসময়ের বিলাসী পণ্যের জায়গা এখন এটি দখল করেছে দৈনন্দিন ব্যবহার্য যন্ত্রপাতির তালিকায়। অফিসপাড়া, ছাত্রাবাস কিংবা ব্যস্ত পরিবারের রান্নাঘর—সবখানেই এর চাহিদা দিনকে দিন বাড়ছে।
অনেকে প্রশ্ন করেন, রাইস কুকারের দাম কত ২০২৬ সালে বাংলাদেশে? কিংবা কোন ব্র্যান্ডের রাইস কুকার ভালো মানের এবং টেকসই? এই বিশদ প্রবন্ধে আমরা একে একে বাংলাদেশের বাজারে জনপ্রিয় ব্র্যান্ড যেমন মিয়াকো, ওয়ালটন, ভিশন, কিয়াম, নোভা প্রভৃতির রাইস কুকারের দাম, ধারণক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরবো। পাশাপাশি থাকছে ক্রেতাদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ ও দরকারি টিপস।
রাইস কুকারের বর্তমান দাম বাংলাদেশে ২০২৬
বাংলাদেশে বর্তমানে রাইস কুকারের দাম গড়ে ২,৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৩,৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। দাম নির্ভর করে—
- ব্র্যান্ড (স্থানীয় নাকি আমদানিকৃত)
- ধারণক্ষমতা (১.৮ লিটার, ৩ লিটার, ৫ লিটার ইত্যাদি)
- সুবিধা ও ফিচার (অটো শাটডাউন, ওয়ান-টাচ অপারেশন, ওয়র্ম মোড ইত্যাদি)
- গুণগত মান ও ওয়ারেন্টি সুবিধা
ছোট পরিবার বা ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাধারণত ১.৮ লিটার ধারণক্ষমতার মডেল যথেষ্ট হয়। অন্যদিকে বড় পরিবারের জন্য ৩ লিটার বা তার বেশি ধারণক্ষমতার রাইস কুকার জনপ্রিয়।
মিয়াকো রাইস কুকারের দাম ২০২৬
মিয়াকো (Miyako) বাংলাদেশের বাজারে বহুল ব্যবহৃত একটি ব্র্যান্ড। এর রাইস কুকারগুলো টেকসই এবং ব্যবহারবান্ধব।
- দামের পরিসীমা: ৪,০০০ টাকা – ৫,০০০ টাকা
- জনপ্রিয় মডেলসমূহ:
- Miyako Rice Cooker MRC – 928 MSIA — দাম ৪,৫০০ টাকা
- Miyako Rice Cooker MCM – 508 — দাম ৫,০০০ টাকা
- Rice Cooker ASL-300-KND Rose (3 Liter) — দাম ৪,২০০ টাকা
- Rice Cooker ASL-1280 KND RED — দাম ৪,০০০ টাকা
- Rice Cooker ASL-3P-300 YLD (white/pink/cream) — দাম ৫,০০০ টাকা
মিয়াকো রাইস কুকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর শক্তপোক্ত গঠন, একাধিক রঙের ভ্যারিয়েন্ট এবং নির্ভরযোগ্যতা।
ভিশন রাইস কুকারের দাম ২০২৬
ভিশন (VISION) বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, যারা কম মূল্যে ভালো মানের রাইস কুকার সরবরাহ করে।
- দামের পরিসীমা: ২,৬৯১ টাকা – ৩,৩০৩ টাকা
- জনপ্রিয় মডেলসমূহ:
- VISION Rice Cooker 1.8 L REL-40-06 SS — দাম ২,৬৯১ টাকা
- VISION Rice Cooker 1.8 L 40-06 SS Blue — দাম ২,৬৯১ টাকা
- VISION Rice Cooker 3.0 Ltr 100 SS Red — দাম ৩,৩০৩ টাকা
- VISION Rice Cooker 3.0 Liter REL-50-05 — দাম ৩,৩০৩ টাকা
ভিশন রাইস কুকারের দাম তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী, তাই এটি সাধারণ পরিবারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
ওয়ালটন রাইস কুকারের দাম ২০২৬
ওয়ালটন (Walton) বাংলাদেশের গর্ব, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড। তাদের রাইস কুকারগুলোর নকশা, প্রযুক্তি ও বৈচিত্র্য অসাধারণ।
- দামের পরিসীমা: ২,০০০ টাকা – ৫,১৯০ টাকা
- জনপ্রিয় মডেলসমূহ:
- WRC-GLORIA-DELUXE 2.8L — দাম ৩,৬৭০ টাকা
- WRC-STAR-DELUXE 2.8L — দাম ৩,৬৯০ টাকা
- WRC-CANDY3.0 — দাম ৫,১৯০ টাকা
- WRC-PAPE18 — দাম ৩,৭৯০ টাকা
- WRC-PAPE28 — দাম ৪,৯৯০ টাকা
- WRC-SGA180 (1.8L) — দাম ২,০০০ টাকা
- WRC-CSSE300 — দাম ৩,৫৯০ টাকা
ওয়ালটন রাইস কুকার শুধু শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলেও ব্যাপক জনপ্রিয়। কারণ, এগুলোর দাম মাঝারি এবং সার্ভিসিং সুবিধা সহজলভ্য।
কিয়াম রাইস কুকারের দাম ২০২৬
কিয়াম (KIAM) বাংলাদেশের অন্যতম পুরনো ও বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড। তাদের রাইস কুকার বাজারে দারুণ সুনাম কুড়িয়েছে।
- দামের পরিসীমা: ২,১৩০ টাকা – ৩,৭৫০ টাকা
- বৈশিষ্ট্য: সিঙ্গেল ও ডাবল রাইস কুকার, টেকসই অ্যালুমিনিয়াম বডি, শক্ত হ্যান্ডেল।
ছাত্রছাত্রীদের হোস্টেল বা ছোট পরিবারের জন্য কিয়াম রাইস কুকার একটি নির্ভরযোগ্য অপশন।
নোভা রাইস কুকারের দাম ২০২৬
নোভা (NOVA) বাংলাদেশের বাজারে সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত রাইস কুকার সরবরাহ করে।
- দামের পরিসীমা: ২,০০০ টাকা – ৫,০০০ টাকা
- বৈশিষ্ট্য: দ্রুত রান্না, সহজ ব্যবহার, সাশ্রয়ী দাম।
সীমিত বাজেটে ভালো মানের রাইস কুকার চাইলে নোভা একটি চমৎকার সমাধান।
১.৮ লিটার রাইস কুকারের দাম
ছোট পরিবার বা একক ব্যবহারকারীদের জন্য ১.৮ লিটার রাইস কুকার যথেষ্ট জনপ্রিয়।
- দামের পরিসীমা: ২,০০০ – ৩,০০০ টাকা
- রান্নার ক্ষমতা: প্রায় ৭০০ গ্রাম চাল রান্না করা সম্ভব।
FAQ – সাধারণ প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: ভিশন রাইস কুকারের দাম কত তিন লিটার?
উত্তর: ভিশন ৩ লিটার রাইস কুকারের দাম প্রায় ৩,৩০৩ টাকা।
প্রশ্ন: KIAM রাইস কুকার দাম কত?
উত্তর: কিয়াম রাইস কুকারের দাম ২,১৩০ – ৩,৭৫০ টাকার মধ্যে।
প্রশ্ন: ১.৮ লিটার রাইস কুকারে কত কেজি চাল রান্না করা যায়?
উত্তর: প্রায় ৭০০ গ্রাম চাল রান্না করা সম্ভব।
প্রশ্ন: ইলেকট্রিক রাইস কুকার কি ভালো?
উত্তর: হ্যাঁ, ইলেকট্রিক রাইস কুকার দ্রুত ভাত রান্না করে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এবং ব্যবহারবান্ধব।
রাইস কুকার কেনার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
- পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী ধারণক্ষমতা ঠিক করুন।
- নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড নির্বাচন করুন যাতে ওয়ারেন্টি ও সার্ভিস সুবিধা পান।
- একাধিক ফিচার যেমন অটো শাটডাউন, কিপ ওয়র্ম মোড থাকলে ব্যবহার আরও সহজ হয়।
- দামের পাশাপাশি টেকসই ও বিদ্যুৎ খরচ বিবেচনায় আনুন।
শেষ কথা
এই প্রবন্ধে আমরা বাংলাদেশের বাজারে ২০২৬ সালে রাইস কুকারের দাম কত তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। ওয়ালটন, ভিশন, মিয়াকো, কিয়াম, নোভা সহ জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের রাইস কুকারের দাম, মডেল ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে।
সঠিক ব্র্যান্ড ও সঠিক ধারণক্ষমতার রাইস কুকার বেছে নিলে রান্নাঘরের কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।



