ওমানের ১০০ রিয়াল বাংলাদেশের কত টাকা

আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত ওমান, একদিকে মরুভূমির দেশ, অন্যদিকে সমুদ্রবাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক কৌশলগত অবস্থান। তেলের সম্পদ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে ওমান মধ্যপ্রাচ্যের একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তবে ওমানকে নিয়ে যে বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়, তা হলো এর জাতীয় মুদ্রা ওমানি রিয়ালের অসাধারণ মূল্যমান। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মুদ্রার মধ্যে রিয়ালের স্থান প্রথম সারিতে।বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার শ্রমিক প্রতিনিয়ত ওমানে গিয়ে কাজ করছেন এবং সেখান থেকে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। তাই প্রবাসী শ্রমিক ও ভ্রমণকারীদের জন্য রিয়ালের মান জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা বেতন হিসাব করতে চান বা দেশে অর্থ পাঠাতে চান, তাদের জন্য সঠিক রেট সম্পর্কে ধারণা থাকা অপরিহার্য।

ওমানি রিয়াল একটি শক্তিশালী মুদ্রা

ওমানি রিয়ালকে বিশ্বের অন্যতম দামী মুদ্রা হিসেবে ধরা হয়। ২০২৪ সালের হিসাবে,

  • ১ ওমানি রিয়াল = ৩১৫.৫০ বাংলাদেশি টাকা
  • ১০০ রিয়াল = প্রায় ৩১,৭৫৪ টাকা

এই দামের পার্থক্য প্রবাসীদের কাছে একটি বড় বিষয়। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশি মুদ্রা দুর্বল হওয়ায়, একটি রিয়ালই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে একটি বড় অঙ্কের সমান।

ওমানের অর্থনীতি প্রধানত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, স্থিতিশীল আর্থিক নীতি, এবং সীমিত মুদ্রা ছাপানোর কৌশলের কারণে রিয়ালের মান সবসময়ই উঁচুতে থাকে।

২০২৬ সালে ওমানি রিয়ালের মান

২০২৬ সালের হিসাবে রিয়ালের মূল্যমান এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে অনেক দেশের মুদ্রার মান ওঠানামা করলেও ওমানি রিয়াল তার স্থায়িত্ব ধরে রেখেছে।

ওমানি রিয়ালবাংলাদেশি টাকা (২০২৬)
১ রিয়াল৩১৫.৫০ টাকা
৫০ রিয়াল১৫,২৭৫ টাকা
১০০ রিয়াল৩১,৭৫৪ টাকা
৫০০ রিয়াল১,৫২,৭৫০ টাকা
১০০০ রিয়াল৩,০৫,৫০০ টাকা

এই রেট পরিবর্তনশীল হলেও, বিগত কয়েক বছরে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়নি। ওমানি মুদ্রার এই শক্তি মূলত তাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির ফল।

কেন রিয়ালের মান এত বেশি?

অনেকেই প্রশ্ন করেন—কেন ওমানি রিয়ালের মান এত বেশি, অথচ বাংলাদেশি টাকার মান তুলনামূলকভাবে কম? এর পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে:

  1. অর্থনৈতিক শক্তি: তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির মাধ্যমে ওমান প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
  2. জনসংখ্যা বনাম সম্পদ: ওমানের জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, অথচ প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য অনেক।
  3. মুদ্রা নীতি: ওমান কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোরভাবে মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে, অতিরিক্ত টাকা ছাপে না।
  4. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: ওমান দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোগায়।
  5. ডলারের সাথে সংযুক্তি: ওমানি রিয়াল মার্কিন ডলারের সাথে স্থিতিশীল বিনিময় হার ধরে রাখে। ফলে ডলারের শক্তির সাথে রিয়ালও শক্তিশালী থাকে।

শেষ কথা

ওমানি রিয়াল বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রাগুলির একটি, এবং এর মান বাংলাদেশি টাকার তুলনায় অনেক বেশি। এজন্য প্রবাসী শ্রমিকদের আয় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা রাখছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top