মালদ্বীপ বাংলাদেশ কর্মী ভিসা নতুন প্রক্রিয়াকরণ ২০২৬

মালদ্বীপ, দক্ষিণ এশিয়ার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি দ্বীপপুঞ্জ, যা তার পর্যটন শিল্পের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। কিন্তু পর্যটনের পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ গঠন করে শ্রমবাজারও, যেখানে প্রচুর বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ে, চার বছর বন্ধ থাকার পর মালদ্বীপে বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য কাজের ভিসা পুনরায় চালু হয়েছে। এতে বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।

এই নিবন্ধে, মালদ্বীপে কাজের উদ্দেশ্যে ভিসা প্রক্রিয়া, খরচ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।

মালদ্বীপ বাংলাদেশ কর্মী ভিসা নতুন প্রক্রিয়াকরণ ২০২৬তে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শ্রমিক আমদানি করলেও, বিগত চার বছর ধরে বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য মালদ্বীপের কাজের ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। তবে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়, এবং এখন বাংলাদেশী কর্মীরা পুনরায় মালদ্বীপে কাজের জন্য যেতে পারছেন।

২০২৬ সালের নতুন ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছু নতুন নির্দেশনা ও নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে, যা এই নিবন্ধে বিশদে আলোচনা করা হবে।

মালদ্বীপ কাজের ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

মালদ্বীপে কাজের ভিসা পেতে হলে আবেদনকারীর অবশ্যই প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এই কাগজপত্রগুলো ছাড়া ভিসা প্রক্রিয়ায় বাধা আসতে পারে। নিচে এই প্রয়োজনীয় নথির তালিকা দেওয়া হলো:

  1. বৈধ পাসপোর্ট: পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে।
  2. ভিসার আবেদনপত্র: নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন জমা দিতে হবে।
  3. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আবেদনকারীর নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।
  4. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট: আবেদনকারীকে নিজের দেশে কোনো অপরাধমূলক কার্যকলাপ থেকে মুক্ত থাকতে হবে এবং সেটার প্রমাণ হিসেবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স জমা দিতে হবে।
  5. মেডিকেল রিপোর্ট: শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার প্রমাণস্বরূপ মেডিকেল রিপোর্ট প্রয়োজন।
  6. করোনা ভ্যাকসিনের টিকা কার্ড: কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে টিকা কার্ড।
  7. সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি: পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
  8. ব্যাংক স্টেটমেন্ট: ভিসা আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য সর্বশেষ ব্যাংক স্টেটমেন্ট।

এই নথিগুলো জমা দেওয়ার পর, প্রয়োজন অনুযায়ী মালদ্বীপের ভিসা এজেন্সি বা রিক্রুটিং এজেন্সি কর্তৃপক্ষ থেকে অন্যান্য ডকুমেন্টের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

মালদ্বীপ কাজের ভিসার খরচ

মালদ্বীপে যাওয়ার খরচ তুলনামূলকভাবে অন্যান্য অনেক দেশের চেয়ে কম। তবে, কাজের ভিসা পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট খরচ রয়েছে, যা দেশভেদে বা এজেন্সি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

মালদ্বীপে কাজের ভিসার জন্য আনুমানিক ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এটি নির্ভর করে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে সংশ্লিষ্ট এজেন্সি এবং আপনার নির্বাচিত প্যাকেজের উপর।

মালদ্বীপ ভিসা পেতে কতদিন লাগে

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে জমা দিলে সাধারণত মালদ্বীপে কাজের ভিসা পেতে ১৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। তবে কখনো কখনো এই সময়সীমা বাড়তেও পারে, যেমন যদি নথিপত্রে কোনো ভুল থাকে বা অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই প্রয়োজন হয়।

শেষ কথা

মালদ্বীপে কর্মী ভিসার নতুন প্রক্রিয়াকরণ ২০২৬এর মাধ্যমে বাংলাদেশী শ্রমিকদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। যারা মালদ্বীপে কাজের জন্য যেতে চান, তাদের অবশ্যই যথাযথ কাগজপত্র প্রস্তুত এবং অভিজ্ঞ এজেন্সির সাহায্য নিয়ে আবেদন করা উচিত।

এই নিবন্ধের মাধ্যমে আশা করি আপনি মালদ্বীপের কাজের ভিসা প্রক্রিয়া, খরচ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top