ইউরোপের বলকান অঞ্চলে অবস্থিত কসোভো একসময় সার্বিয়ার প্রদেশ হলেও বর্তমানে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে প্রায় ১১৫টি দেশ কসোভোকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ দেশটি ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিদেশি শ্রমিকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করছে।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বহু শ্রমিক বর্তমানে কসোভোতে কাজ করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে রোমানিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার মতো দেশে কাজের ভিসা সীমিত হওয়ায় এখন কসোভো অনেকের কাছে নতুন গন্তব্য। কিন্তু যাওয়ার আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—কসোভোতে বেতন কত? কোন কাজের চাহিদা বেশি? জীবনযাত্রার খরচ কেমন?
এই দীর্ঘ প্রতিবেদনে আমরা কসোভোর সর্বনিম্ন ও গড় বেতন, বিভিন্ন খাতে আয়ের সুযোগ, ভিসার খরচ, মুদ্রার মান এবং জীবনযাত্রার বাস্তবতা বিস্তারিত আলোচনা করবো।
কসোভো সর্বনিম্ন বেতন কত
২০২৪ সালের হিসেবে কসোভোতে সর্বনিম্ন মাসিক বেতন সরকারিভাবে ২৬৪ ইউরো নির্ধারিত হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ৩০,০০০ টাকা। তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রাইভেট সেক্টরে কর্মীদের বেতন ২০০ থেকে ৩০০ ইউরো এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
যেসব কাজে কিছুটা দক্ষতা প্রয়োজন, যেমন—কনস্ট্রাকশন, টেকনিক্যাল ও হসপিটালিটি সেক্টর, সেখানে মাসিক আয় ৩৫০ থেকে ৪৫০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
গড়ে বাংলাদেশি টাকায় সর্বনিম্ন বেতন ৩১,০০০ – ৩৫,০০০ টাকা, আর সর্বোচ্চ বেতন দক্ষতার ওপর নির্ভর করে ১ লক্ষ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উঠতে পারে।
কসোভো কোন কাজের বেতন কত
কসোভোর অর্থনীতি যদিও পশ্চিম ইউরোপের তুলনায় ছোট, তারপরও এখানে বিভিন্ন পেশায় ভালো আয়ের সুযোগ রয়েছে। নিচে জনপ্রিয় কিছু পেশা ও তাদের গড় বেতনের তালিকা দেওয়া হলো (বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করা হয়েছে):
- কনস্ট্রাকশন শ্রমিক: ৩৫,০০০ – ৬০,000 টাকা
- ফ্যাক্টরি ও ম্যানুফ্যাকচারিং: ৪০,000 – ৫০,000 টাকা
- রেস্টুরেন্ট/হোটেল কর্মী: ৪০,000 – ৬০,000 টাকা
- ক্লিনার ও সার্ভিস স্টাফ: ৩৫,000 – ৫০,000 টাকা
- কৃষি শ্রমিক: ৪০,000 – ৪৫,000 টাকা
- নার্স: ৪৫,000 – ৬০,000 টাকা
- শিক্ষক: ৭০,000 – ৮০,000 টাকা
- ইঞ্জিনিয়ার: ৮০,000 – ৯০,000 টাকা
- কম্পিউটার প্রোগ্রামার/আইটি স্পেশালিস্ট: ১,০০,000 – ১,২০,000 টাকা
- অভিজ্ঞ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার: ১,৫০,000 টাকার বেশি
বিশেষ দক্ষতা সম্পন্নদের জন্য আইটি, স্বাস্থ্য ও ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে আয় তুলনামূলক বেশি।
কসোভোতে কোন কাজের চাহিদা বেশ
বর্তমানে কসোভোর শ্রমবাজারে যেসব খাতে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে তা হলো:
- নির্মাণ ও অবকাঠামো খাত
- কৃষি ও ফার্মিং
- ফ্যাক্টরি ও ম্যানুফ্যাকচারিং
- হসপিটালিটি (রেস্টুরেন্ট, হোটেল, কিচেন হেল্পার)
- ড্রাইভিং ও ট্রান্সপোর্ট
- স্বাস্থ্য খাত (নার্স, কেয়ারগিভার)
- আইটি ও টেকনোলজি সেক্টর
- ইলেকট্রিশিয়ান ও টেকনিশিয়ান
বাংলাদেশ থেকে যারা যাচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই কনস্ট্রাকশন, সার্ভিস ও কৃষি খাতে কাজ পাচ্ছেন। তবে যারা কম্পিউটার বা ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসেন, তারা সহজেই উচ্চ বেতনের চাকরি পেতে পারেন।।
কসোভোতে কাজের সুবিধা ও অসুবিধা
সুবিধা
- ইউরোপের দেশ হওয়ায় বৈধ কাগজপত্র থাকলে অন্যান্য দেশে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
- কিছু খাতে বেতন ভালো, বিশেষ করে আইটি ও ইঞ্জিনিয়ারিং-এ।
- বাংলাদেশ থেকে ভিসা পাওয়া তুলনামূলক সহজ।
অসুবিধা:
- সর্বনিম্ন বেতন কম, প্রাথমিক খরচ তুলনামূলক বেশি।
- প্রতারণার ঝুঁকি বেশি (দালাল চক্রের কারণে)।
- জীবনযাত্রার খরচ মেটানোর পর সঞ্চয় সীমিত।
FAQ
কসোভোতে যাওয়া কি লাভজনক?
যদি আপনার দক্ষতা থাকে (বিশেষ করে টেকনিক্যাল বা আইটি সেক্টরে), তাহলে কসোভোতে যাওয়া লাভজনক হতে পারে। তবে সাধারণ শ্রমিকদের জন্য খরচের তুলনায় আয় খুব বেশি নয়।
কসোভো থেকে ইতালি কত দূরত্ব?
কসোভোর রাজধানী প্রিস্টিনা থেকে ইতালির রোম পর্যন্ত প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার।
কোন কাজের বেতন বেশি?
আইটি স্পেশালিস্ট, ইঞ্জিনিয়ার এবং অভিজ্ঞ কনস্ট্রাকশন কর্মীদের বেতন তুলনামূলক বেশি।
ভিসা পাওয়া কতটা সহজ?
সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে আবেদন করলে ৩-৪ মাসের মধ্যে ভিসা পাওয়া যায়।
শেষ কথা
কসোভো ইউরোপের একটি উদীয়মান দেশ যেখানে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তবে এ দেশে যাওয়ার আগে বেতন কাঠামো, জীবনযাত্রার খরচ এবং ভিসার খরচ ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ থেকে যারা যাচ্ছেন, তাদের জন্য কনস্ট্রাকশন, কৃষি, সার্ভিস ও ফ্যাক্টরি খাত প্রধান কর্মসংস্থানের জায়গা। কিন্তু যারা আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং বা স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ, তারা তুলনামূলক অনেক বেশি আয় করতে পারবেন।
তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের দক্ষতা, খরচ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক প্রস্তুতি ও বৈধ উপায়ে গেলে কসোভোতে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল জীবন গড়ে তোলা সম্ভব।



