ইরাক—মধ্যপ্রাচ্যের এক ঐতিহাসিক ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র। বাগদাদ রাজধানী শহর হিসেবে কেবল ইরাকের নয়, গোটা মুসলিম বিশ্বের ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এ দেশ সভ্যতা, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির এক অমূল্য অধ্যায় বহন করছে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ ইরাকে যান কাজের খোঁজে, বিশেষত নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও পরিষেবা খাতে কর্মসংস্থানের জন্য।
বাংলাদেশ থেকে ইরাকে যাত্রার অন্যতম প্রধান বিষয় হলো মুদ্রা বা ইরাকি দিনার (IQD) এবং তার সাথে বাংলাদেশি টাকার (BDT) বিনিময় হার জানা। কারণ জীবিকা নির্বাহ, সঞ্চয়, পরিবারে রেমিট্যান্স প্রেরণ কিংবা ভ্রমণ—সবকিছুর সাথেই সরাসরি যুক্ত মুদ্রার মূল্যমান।
ইরাকি দিনারের ইতিহাস
ইরাকি মুদ্রার নাম দিনার (IQD)।
- ১৯৩২ সালে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীনে “ইরাকি দিনার” চালু হয়।
- প্রাথমিকভাবে ১ দিনার সমান ছিল ১ পাউন্ড স্টার্লিং।
- পরবর্তী সময়ে দিনারের মান ওঠানামা করলেও ১৯৭০-এর দশকে এটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম শক্তিশালী মুদ্রা হিসেবে পরিচিতি পায়।
- তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক ধাক্কার কারণে দিনারের মান ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।
- বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে দিনারের মান তুলনামূলকভাবে কম হলেও, ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে।
ইরাকি দিনার বনাম বাংলাদেশি টাকা
বাংলাদেশ থেকে যেসব মানুষ ইরাকে কাজ বা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যান, তাদের প্রথম প্রশ্ন—
“ইরাকের ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা?”
বর্তমানে গড়ে (বাজারভেদে সামান্য ওঠানামা হতে পারে):
| ইরাকি দিনার (IQD) | বাংলাদেশি টাকা (BDT) |
|---|---|
| ১ দিনার | ০.০৯৩ টাকা (প্রায় ৯ পয়সা) |
| ১০ দিনার | ০.৯৩ টাকা |
| ৫০ দিনার | ৪ টাকা ৬৫ পয়সা |
| ১০০ দিনার | ৯ টাকা ৩০ পয়সা |
| ১০০০ দিনার | ৯৩ টাকা |
অর্থাৎ, ইরাকি দিনারের মান বাংলাদেশি টাকার তুলনায় কম।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তেলের দামের ওঠানামার কারণে প্রতিদিনই এই হার সামান্য বদলাতে পারে।
মুদ্রা বিনিময়ের ওঠানামার কারণ
ইরাকি দিনার এবং বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার কেন পরিবর্তিত হয়? এর প্রধান কারণগুলো হলো:
১. আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
ইরাক একটি তেলনির্ভর অর্থনীতি। তেলের দামের বৃদ্ধি বা পতন সরাসরি দিনারের মূল্যে প্রভাব ফেলে। একইভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নীতি ও সুদের হারও প্রভাব বিস্তার করে।
২. মুদ্রাস্ফীতি
উভয় দেশের ভেতরে ও বাইরে মুদ্রাস্ফীতির হারের পার্থক্য বিনিময় হারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
৩. সরকারি নীতি ও আর্থিক ব্যবস্থা
ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক নীতি বিনিময় হারে প্রভাবিত করে।
৪. বৈদেশিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্য
দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, আমদানি-রপ্তানি হার এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহও মুদ্রার মান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
শেষ কথা
ইরাকে কাজ বা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? তবে ইরাকি দিনার বনাম বাংলাদেশি টাকা সম্পর্কিত জ্ঞান আপনার আর্থিক পরিকল্পনার মূল ভিত্তি। বিনিময় হারের পরিবর্তন, ইরাকের জীবনযাত্রার খরচ, এবং সঠিক অর্থ ব্যবস্থাপনা জানলে প্রবাস জীবন অনেক সহজ ও স্বচ্ছন্দ হবে।
প্রতিদিনের বিনিময় হার যাচাই করুন, ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে রেমিট্যান্স পাঠান এবং সঠিকভাবে সঞ্চয় করুন। মনে রাখবেন—সঠিক পরিকল্পনা আপনার প্রবাস জীবনের সাফল্যের প্রথম ধাপ।



