গ্রিস যেতে কত টাকা লাগে ২০২৬

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের প্রাচীন সভ্যতার এক উজ্জ্বল আলোকস্তম্ভ—গ্রিস। দর্শন, গণিত, নাট্যকলা কিংবা আধুনিক গণতন্ত্র—মানবসভ্যতার বহু ভিত্তি রচিত হয়েছে এই ভূমিতে। আজকের দিনে দেশটি শুধু ইতিহাসের জন্য নয়, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, কাজের সুযোগ, উন্নত জীবনমান এবং ইউরোপীয় সংযোগের জন্যও আলোচিত। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বহু মানুষ কাজের ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা কিংবা টুরিস্ট ভিসা নিয়ে গ্রিসে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন।

গ্রিস যেতে কত টাকা লাগে

বাংলাদেশ থেকে গ্রিস যাওয়ার খরচ নির্ভর করে আপনার ভিসার ধরন ও প্রসেসিং পদ্ধতির ওপর।

নিচে ক্যাটাগরি অনুযায়ী আনুমানিক খরচ তুলে ধরা হলো:

ভিসা ক্যাটাগরিআনুমানিক খরচ (বাংলাদেশি টাকা)
কাজের ভিসা৮ লাখ – ১২ লাখ টাকা
স্টুডেন্ট ভিসা৪ লাখ – ৬ লাখ টাকা
টুরিস্ট ভিসা৪ লাখ – ৫ লাখ টাকা
সরকারিভাবে কাজের ভিসাতুলনামূলক কম

এগুলো আনুমানিক হিসাব। প্রকৃত খরচ নির্ভর করবে:

  • ভিসা ফি
  • এজেন্সি চার্জ
  • মেডিকেল ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
  • বিমান ভাড়া
  • ডকুমেন্টেশন ও অনুবাদ খরচ
  • সার্ভিস চার্জ

এখন প্রতিটি ভিসা আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা যাক।

গ্রিস ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া

গ্রিস ভিসা আবেদন করার আগে সঠিক প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি।

১, ভিসা ক্যাটাগরি নির্ধারণ

  • কাজের ভিসা
  • স্টুডেন্ট ভিসা
  • টুরিস্ট ভিসা

২. অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আবেদন

গ্রিসের অফিসিয়াল ইমিগ্রেশন সাইটে গিয়ে আবেদন ফর্ম ডাউনলোড ও পূরণ করতে হবে।

৩, ভিসা প্রসেসিং সেন্টার

বাংলাদেশে ভিসা আবেদন সাধারণত ভিএফএস গ্লোবাল এর মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়।

৪. বায়োমেট্রিক ও সাক্ষাৎকার

নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত হয়ে:

  • বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান
  • সাক্ষাৎকার
  • ডকুমেন্ট যাচাই

৫. ভিসা সিদ্ধান্ত

সাধারণত ১৫–৩০ কার্যদিবস সময় লাগে।

গ্রিস যেতে কি কি কাগজপত্র লাগে?

ভিসা ক্যাটাগরি অনুযায়ী ডকুমেন্ট ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণত যা লাগে:

  • বৈধ পাসপোর্ট
  • জাতীয় পরিচয়পত্র
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট
  • মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
  • একাডেমিক সার্টিফিকেট
  • ট্রান্সক্রিপ্ট
  • কাজের অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট
  • ভাষা দক্ষতার প্রমাণ (IELTS/TOEFL)
  • অফার লেটার (স্টুডেন্টদের জন্য)
  • ওয়ার্ক পারমিট (কাজের ভিসার জন্য)
  • ভ্রমণ ইতিহাস

গ্রিস যেতে কত বছর বয়স লাগে?

স্টুডেন্ট ও টুরিস্ট ভিসা:

ন্যূনতম ১৮ বছর।

কাজের ভিসা:

কমপক্ষে ২১ বছর।

কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করতে পারে।

FAQs

বাংলাদেশে গ্রিসের দূতাবাস কোথায়?

বাংলাদেশে গ্রিসের দূতাবাস ঢাকায় অবস্থিত। সাধারণত ভিসা সংক্রান্ত কাজ ভিসা প্রসেসিং সেন্টারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

গ্রিস কি সেনজেনভুক্ত দেশ?

হ্যাঁ। গ্রিস সেনজেন চুক্তিভুক্ত দেশ। এর ফলে একবার ভিসা পেলে আপনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অন্যান্য সেনজেন দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন।

১ ইউরো সমান কত টাকা?

বর্তমানে ১ ইউরো প্রায় ১২৬ টাকা (হার পরিবর্তনশীল)।
আপডেট রেট জানতে ব্যাংক বা মানি এক্সচেঞ্জ হাউসে যোগাযোগ করুন।

বাংলাদেশ থেকে গ্রিস যেতে কত সময় লাগে?

সরাসরি ফ্লাইট সাধারণত নেই। ট্রানজিটসহ ভ্রমণ সময় প্রায় ১৮–২৪ ঘণ্টা।

শেষ কথা

গ্রিস যেতে খরচ ভিসার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন। কাজের ভিসায় ৮–১২ লাখ টাকা, স্টুডেন্ট ভিসায় ৪–৬ লাখ টাকা, আর টুরিস্ট ভিসায় ৪–৫ লাখ টাকা লাগতে পারে।

কিন্তু খরচই শেষ কথা নয়। সঠিক ডকুমেন্ট, বৈধ প্রসেসিং, ভাষা দক্ষতা, এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা—এই চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে আপনার গ্রিস যাত্রা সফল হবে।

স্বপ্ন দেখুন। প্রস্তুতি নিন। যাচাই করুন। তারপর এগিয়ে যান।

গ্রিস—ইতিহাসের দেশ, সম্ভাবনার দেশ, নতুন জীবনের দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top