ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেন ভাড়া ২০২৬

বাংলাদেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে কক্সবাজার শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়, বরং এটি প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের এক মহামঞ্চ। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত হওয়ায় এর প্রতি আকর্ষণ স্বাভাবিকভাবেই বহুগুণ বেশি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কক্সবাজারে ছুটে আসেন, আর রাজধানী ঢাকা থেকে পর্যটকদের সিংহভাগ যাত্রা শুরু হয়। অতীতে শুধুমাত্র সড়কপথ বা আকাশপথে যাতায়াতের সুযোগ থাকলেও বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস চালু হওয়ায় ভ্রমণ আরও সহজ, স্বস্তিদায়ক ও সময় সাশ্রয়ী হয়েছে।

এই নিবন্ধে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে—ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের ভাড়া, সময়সূচী, টিকেট কাটার নিয়ম, ট্রেনের নাম ও যাত্রাবিরতির তথ্য। ভ্রমণ পরিকল্পনা করার আগে এই পূর্ণাঙ্গ গাইডটি আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।

ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেন ভাড়া ২০২৬

ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনে ভ্রমণের সময় যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন শ্রেণির আসন ব্যবস্থা রয়েছে। ভাড়ার তালিকা নিচে দেওয়া হলো –

ট্রেনের নামরুটশোভন চেয়ারস্নিগ্ধাএসি বার্থএসি সিট
কক্সবাজার এক্সপ্রেসঢাকা → কক্সবাজার৬৯৫ টাকা১,৩২৫ টাকা২,৩৮০ টাকা১,৫৯০ টাকা
পর্যটক এক্সপ্রেসঢাকা → কক্সবাজার৬৯৫ টাকা১,৩২৫ টাকা২,৩৮০ টাকা১,৫৯০ টাকা

🔹 নোটিশ: অনলাইনে টিকেট কিনলে প্রতি টিকেটে ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ যোগ হবে। এছাড়া এসি বার্থ ও এসি সিট টিকেটের ক্ষেত্রে ৫০ টাকা বেডিং চার্জ প্রযোজ্য।

ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬

ভ্রমণের সঠিক পরিকল্পনার জন্য সময়সূচী জানা অত্যন্ত জরুরি।

ট্রেনের নামপ্রারম্ভিক স্টেশনযাত্রা শুরুগন্তব্য স্টেশনযাত্রা শেষসাপ্তাহিক ছুটি
কক্সবাজার এক্সপ্রেসঢাকা কমলাপুররাত ১০:৩০ মিনিটকক্সবাজারসকাল ৭:২০ মিনিটসোমবার
পর্যটক এক্সপ্রেসঢাকা কমলাপুরভোর ৬:১৫ মিনিটকক্সবাজারবিকাল ৩:০০ টারবিবার

কক্সবাজার থেকে ঢাকা ফেরার সময়সূচী

ভ্রমণের পরিকল্পনায় ফেরার সময়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

  • কক্সবাজার এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে দুপুরে ছেড়ে যায় এবং রাতে ঢাকায় পৌঁছে।
  • পর্যটক এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে বিকালে যাত্রা শুরু করে এবং রাতে ঢাকায় পৌঁছে।

(সঠিক সময় জানতে ভ্রমণের আগে রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট চেক করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।)

ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেন টিকেট কাটার নিয়ম

বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকেট ক্রয় প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ। যাত্রীদের জন্য রয়েছে দুই ধরনের সুবিধা –

১. স্টেশন টিকেট কাউন্টার থেকে

কমলাপুর, বিমানবন্দর বা দেশের যেকোনো বড় রেলস্টেশন থেকে সরাসরি কাউন্টার থেকে টিকেট কেনা যায়।

২. অনলাইন বুকিং (eticket.railway.gov.bd)

  • ওয়েবসাইটে গিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।
  • যাত্রার তারিখ, রুট ও শ্রেণি নির্বাচন করতে হবে।
  • মোবাইল ব্যাংকিং/কার্ডের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।
  • টিকেট ই-মেইল/এসএমএসে পাওয়া যাবে, যা প্রিন্ট বা মোবাইলে দেখিয়েই ভ্রমণ করা সম্ভব।

শেষ কথা

ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনে ভ্রমণ বর্তমানে সবচেয়ে আরামদায়ক, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা। মাত্র কয়েক ঘণ্টার যাত্রায় দেশের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। ভ্রমণের সময়সূচী, ভাড়া ও টিকেট কাটার নিয়ম সম্পর্কে সচেতন থেকে সহজেই আপনার ভ্রমণকে ঝামেলামুক্ত করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top