কাজ, শিক্ষা এবং স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন—এই তিনটি শব্দের সাথে যে দেশের নাম প্রায় অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে, সেটি হলো কানাডা। বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড, শক্তিশালী অর্থনীতি, বহুসাংস্কৃতিক সমাজব্যবস্থা এবং উন্নত জীবনযাত্রার মান—সব মিলিয়ে দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দক্ষ ও অদক্ষ কর্মীদের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় কানাডায় পাড়ি জমানোর স্বপ্ন দেখেন। কেউ যান উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে, কেউবা স্থায়ী অভিবাসনের আশায়, আবার অনেকে কেবল কাজের সুযোগকে পুঁজি করে নিজেদের ও পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন আনতে চান।
কিন্তু স্বপ্ন আর বাস্তবতার মাঝখানে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু—কানাডা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা। এই ভিসা সম্পর্কে অজ্ঞতা, ভুল তথ্য এবং দালালচক্রের প্রতারণা অনেককে আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।
বাংলাদেশ থেকে কানাডা ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার উপায়
বাংলাদেশ সরকার সরাসরি সরকারিভাবে কানাডায় শ্রমিক পাঠায় না। তাই প্রার্থীদের দুইটি পথ খোলা থাকে:
১. নিজে নিজে অনলাইনে আবেদন
২. বিশ্বস্ত বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন
ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া
ধাপ ১: চাকরি খোঁজা
আন্তর্জাতিক জব পোর্টালে প্রোফাইল খুলুন। LMIA লেখা থাকলে বুঝবেন কোম্পানিটি বিদেশি কর্মী নিতে প্রস্তুত।
ধাপ ২: অনলাইন সাক্ষাৎকার
নিয়োগকর্তা ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করে।
ধাপ ৩: জব অফার লেটার
চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলে কোম্পানি অফার লেটার পাঠায়।
ধাপ ৪: LMIA অনুমোদন
নিয়োগকর্তা LMIA সংগ্রহ করে।
ধাপ ৫: ভিসা আবেদন
অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হয়।
কানাডা ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- বৈধ পাসপোর্ট
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- জব অফার লেটার
- LMIA অনুমোদনপত্র
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ
- কাজের অভিজ্ঞতার সনদ
- সিভি
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
- মেডিকেল রিপোর্ট
- ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণ
এই কাগজপত্রগুলো নির্ভুল ও আপডেট থাকা আবশ্যক। সামান্য ভুলও আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে।
কানাডা ওয়ার্ক পারমিট ভিসার খরচ কত?
খরচ নির্ভর করে বিভিন্ন বিষয়ে:
- নিজে আবেদন নাকি এজেন্সির মাধ্যমে
- কাজের ধরন
- LMIA সংক্রান্ত খরচ
- মেডিকেল ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
- বায়োমেট্রিক ফি
আনুমানিক খরচ
বাংলাদেশ থেকে কানাডা ওয়ার্ক পারমিটের মোট খরচ প্রায় ৮ লাখ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
নিজে আবেদন করলে খরচ কম, কিন্তু সঠিক প্রক্রিয়া না জানলে ঝুঁকি বেশি। এজেন্সির মাধ্যমে গেলে খরচ বাড়ে, তবে অভিজ্ঞ সহায়তা পাওয়া যায।
শেষ কথা
কানাডা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা একটি সুবর্ণ সুযোগ—কিন্তু এটি কোনো শর্টকাট নয়। সঠিক তথ্য, বৈধ প্রক্রিয়া এবং ধৈর্য—এই তিনটি বিষয় সফলতার চাবিকাঠি।
যারা বাংলাদেশ থেকে কানাডায় কাজের উদ্দেশ্যে যেতে চান, তাদের উচিত:
- প্রক্রিয়া ভালোভাবে বোঝা
- ভুয়া প্রতিশ্রুতি এড়ানো
- বৈধ কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা
- নিজে গবেষণা করা
কানাডা শুধু একটি দেশ নয়—এটি সম্ভাবনার বিস্তৃত প্রান্তর। সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে এগোলে স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে বাধ্য।
আপনি যদি কানাডা ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে আরও নির্দিষ্ট তথ্য জানতে চান—যেমন নির্দিষ্ট পেশার চাহিদা, প্রদেশভিত্তিক বেতন বা আপডেটেড ভিসা ফি—তাহলে জানাতে পারেন



