গরমের দিনে স্বস্তির শ্বাস নিতে এখন আর কেবল ফ্যানের উপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপমাত্রা রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে, ফলে অনেকেই আরামদায়ক বাতাসের জন্য এয়ার কুলারের দিকে ঝুঁকছেন। তবে বেশিরভাগ মানুষই জানতে চান – এয়ার কুলার দাম কত টাকা ২০২৬ সালে বাংলাদেশে?
এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব এয়ার কুলারের প্রাইস, বিভিন্ন ব্র্যান্ড যেমন ওয়ালটন, ভিশন, গ্রি, সিঙ্গার ইত্যাদির দাম, মিনি এয়ার কুলারের খরচ, এবং কোন কোম্পানির এয়ার কুলার আপনার জন্য উপযুক্ত হবে।
এয়ার কুলার দাম কত টাকা ২০২৬
বাংলাদেশে ২০২৬ সালে এয়ার কুলারের দাম শুরু হচ্ছে ১,৩০০ টাকা থেকে ২৯,৫০০ টাকা পর্যন্ত।
- মিনি এয়ার কুলার: ১,২০০ – ৩,৫০০ টাকা
- মিড-রেঞ্জ ব্র্যান্ডেড কুলার: ৮,০০০ – ১৬,০০০ টাকা
- হাই-এন্ড বড় কুলার: ১৮,০০০ – ২৯,৫০০ টাকা
দামের পার্থক্য নির্ভর করে—
✔ আকার (লিটার ক্ষমতা)
✔ ব্র্যান্ড
✔ কুলিং ফিচার
✔ রিমোট কন্ট্রোল, আইস চেম্বার ইত্যাদি অতিরিক্ত সুবিধার উপর।
মিনি এয়ার কুলার দাম ২০২৬
যাদের ছোট রুমে বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কুলার দরকার, তাদের জন্য মিনি এয়ার কুলার অন্যতম সাশ্রয়ী সমাধান।
- দাম: ১,২০০ টাকা – ৩,৫০০ টাকা
- ব্যবহারযোগ্য: ১ থেকে ২ জনের জন্য
- সহজে বহনযোগ্য, কম বিদ্যুৎ খরচ
- অনলাইন শপ ও স্থানীয় ইলেকট্রনিক্স দোকানে সহজে পাওয়া যায়।
তবে মনে রাখতে হবে, এগুলো ঘরের পুরোটা ঠান্ডা করতে পারে না; শুধু ব্যবহারকারীর কাছাকাছি ঠান্ডা বাতাস দেয়।
ওয়ালটন এয়ার কুলার প্রাইস ইন বাংলাদেশ
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে একটি হলো Walton। স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়ায় দাম তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী।
- দাম শুরু: ৬,১০০ টাকা
- সর্বোচ্চ দাম: ১৫,৯০০ টাকা
ওয়ালটন এয়ার কুলারের বৈশিষ্ট্য:
- ভালো মানের প্লাস্টিক বডি
- পর্যাপ্ত পানি ধারণক্ষমতা
- কম বিদ্যুৎ খরচ
- বিভিন্ন আকার ও ডিজাইন
যারা বাজেটের মধ্যে একটি ভালো এয়ার কুলার চান, তাদের জন্য ওয়ালটন সেরা বিকল্প হতে পারে।
সিঙ্গার এয়ার কুলার দাম
বাংলাদেশে সিঙ্গার ব্র্যান্ডের এয়ার কুলার খুব একটা প্রচলিত নয়। তবে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস বা আমদানিকৃত পণ্য হিসেবে পাওয়া যায়।
- দাম: ৫,০০০ টাকা – ২০,০০০ টাকা
- মানের দিক থেকে ভালো হলেও স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য নয়।
ভিশন এয়ার কুলার দাম ২০২৬
ভিশন একটি প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ড, বিশেষ করে দেশের বাজারে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের জন্য পরিচিত।
- দাম: ১২,৫০০ – ১৬,০০০ টাকা
- জনপ্রিয় মডেলসমূহ:
- VISION Evaporative Air Cooler 35L – ১৪,৫০০ টাকা
- VISION Evaporative 45L Super Cool – ১৬,০০০ টাকা
- VISION VIS-Frosty Air Cooler 20L – ১৫,৫০০ টাকা
- VISION Evaporative Air Cooler 50M – ১৩,০০০ টাকা
ভিশন এয়ার কুলার অনলাইন শপিং সাইট, অফিসিয়াল শো-রুম ও ইলেকট্রনিক্স আউটলেট থেকে সহজেই কেনা যায়।
গ্রি এয়ার কুলার দাম
গ্রি বিশ্বব্যাপী পরিচিত একটি ব্র্যান্ড, বিশেষ করে এসি পণ্যের জন্য। তাদের এয়ার কুলারও বাংলাদেশে জনপ্রিয় হচ্ছে।
- দাম: ১৮,০০০ – ২৫,০০০ টাকা
- সাধারণ ও পোর্টেবল উভয় ধরনের কুলার পাওয়া যায়।
- টেকসই, শক্তিশালী মোটর এবং আধুনিক ডিজাইন গ্রি কুলারের বিশেষত্ব।
এয়ার কুলার প্রাইস লিস্ট ইন বাংলাদেশ ২০২৬
নিচে কিছু জনপ্রিয় এয়ার কুলারের দাম উল্লেখ করা হলো:
| মডেল | দাম (টাকা) |
|---|---|
| Vision Evaporative Slim Air Cooler | ১২,০০০ |
| Race Air Cooler | ১,৩৯৯ |
| Gree 40L Portable Air Cooler | ১৭,৯৯০ |
| Nova NV-921 Remote Control Cooler | ১৩,৯৯৯ |
| Gree KSWK-2001DGL 20L Cooler | ১৬,৯৯৯ |
| Defender KTH-2986HRS Cooler | ৮,২০০ |
| Vision Glam 22L Air Cooler | ১২,০০০ |
| Arctic Air Mini Cooler | ১,৩০০ |
| Mist Fan 35L Heavy Duty | ২৯,৫০০ |
কোন কোম্পানির এয়ার কুলার ভালো?
বাংলাদেশে বর্তমানে ওয়ালটন, ভিশন এবং গ্রি ব্র্যান্ডের কুলার সবচেয়ে জনপ্রিয়।
- ওয়ালটন – সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য
- ভিশন – মান ও ডিজাইনের সমন্বয়
- গ্রি – হাই-এন্ড ও শক্তিশালী কুলার
আপনার বাজেট, ঘরের আকার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ব্র্যান্ড নির্বাচন করাই সেরা সিদ্ধান্ত।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: ভিশন এয়ার কুলারের দাম কত?
১২,৫০০ টাকা থেকে ১৬,০০০ টাকা পর্যন্ত।
প্রশ্ন ২: এসির থেকে এয়ার কুলার কি ভালো?
পরিবেশবান্ধব ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে এয়ার কুলার ভালো, তবে ঠান্ডা করার দিক থেকে এসি শক্তিশালী।
প্রশ্ন ৩: সবচেয়ে সাশ্রয়ী ব্র্যান্ড কোনটি?
ওয়ালটন।
প্রশ্ন ৪: মিনি এয়ার কুলার কি কার্যকর?
ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কার্যকর, তবে বড় রুম ঠান্ডা করতে সক্ষম নয়।
শেষ কথা
২০২৬ সালে বাংলাদেশে এয়ার কুলারের দাম শুরু হচ্ছে মাত্র ১,৩০০ টাকা থেকে ২৯,৫০০ টাকা পর্যন্ত। বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি মিনি এয়ার কুলার, ওয়ালটন, ভিশন কিংবা গ্রি ব্র্যান্ডের কুলার বেছে নিতে পারেন।
একটি সঠিক এয়ার কুলার নির্বাচন করার আগে অবশ্যই—
✔ ঘরের আকার বিবেচনা করুন
✔ ব্র্যান্ড ও সার্ভিস সুবিধা যাচাই করুন
✔ দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্য মানসম্পন্ন পণ্য নিন
এভাবেই গরমের তীব্রতা থেকে স্বস্তি পেতে পারবেন সহজে।



