আজকের আলুর বাজারের দাম ২০২৬

বাংলাদেশের দৈনন্দিন খাবারের টেবিলে আলু এমন এক অপরিহার্য সবজি, যা ছাড়া রান্না প্রায় অসম্পূর্ণ। ভাত, ডাল, মাছ কিংবা মাংস – প্রায় প্রতিটি পদেই আলুর ব্যবহার দেখা যায়। আলু কেবল স্বাদ বৃদ্ধিই করে না, বরং এর সহজলভ্যতা, কম দামের কারণে এবং উচ্চ পুষ্টিগুণের কারণে এটি জনগণের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

তবে বিগত কয়েক বছর ধরে আলুর বাজার দর নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কখনো দাম কম, আবার হঠাৎ করে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দাম বেড়ে যায়। ২০২৬ সালে এসে আলুর দাম কোথায় দাঁড়িয়েছে, কোন কোন কারণ দাম বাড়াচ্ছে বা কমাচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে দাম কী হতে পারে—এসব বিষয় নিয়েই এই বিস্তৃত আলোচনায় বিশ্লেষণ করা হলো।

আলুর বাজার দর ২০২৬ বর্তমান চিত্র

২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আলুর খুচরা দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা প্রতি কেজি। মৌসুম, উৎপাদন, চাহিদা এবং সরবরাহের ওপর নির্ভর করে এ দামে পরিবর্তন দেখা যায়।

বিষয়বিবরণ
বাজার দর৫০ – ৬০ টাকা কেজি
প্রধান প্রভাবকআবহাওয়া, উৎপাদন পরিমাণ, বাজারে সরবরাহ, চাহিদা
আবহাওয়ার প্রভাবপ্রতিকূল আবহাওয়ায় উৎপাদন কমে, ফলে দাম বেড়ে যায়
উৎসব/চাহিদারমজান, পূজা, ঈদ বা জাতীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে আলুর চাহিদা বাড়ে
রপ্তানিবিদেশে আলুর চাহিদা থাকলে স্থানীয় বাজারে দাম বৃদ্ধি পায়
বাজার বৈচিত্র্যস্থান ও সময় ভেদে দাম ওঠানামা করে

এক কেজি আলুর দাম অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণ

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বিভাগে খুচরা বাজারে আলুর দাম প্রায় একই রকম হলেও কিছু অঞ্চলে সামান্য পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।

স্থান১ কেজির দাম (২০২৬)গত মাসের দাম
ঢাকা৫৫ – ৬০ টাকা৫৫ – ৬০ টাকা
চট্টগ্রাম৫৫ – ৫৮ টাকা৫৫ – ৫৬ টাকা
খুলনা৫৮ – ৬০ টাকা৬০ – ৬৫ টাকা
রাজশাহী৫৪ – ৫৫ টাকা৫৪ – ৫৫ টাকা
বরিশাল৫৮ – ৬০ টাকা৫০ – ৫২ টাকা
রংপুর৫৪ – ৫৫ টাকা৫৪ – ৫৫ টাকা
সিলেট৫৫ – ৬০ টাকা৫৫ – ৬০ টাকা
ময়মনসিংহ৫৬ – ৫৭ টাকা৫৮ – ৬০ টাকা

এ তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, দেশের উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে আলুর দাম তুলনামূলকভাবে কম, আর দক্ষিণাঞ্চলে কিছুটা বেশি।

গত বছরের সঙ্গে তুলনা দামের ঊর্ধ্বগতি

২০২৩ সালের আগস্ট মাসে আলুর দাম ছিল ৩৮ – ৪০ টাকা প্রতি কেজি। অথচ ২০২৬ সালে এসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪ – ৬০ টাকা। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে কেজিপ্রতি প্রায় ১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বৃদ্ধি কয়েকটি কারণে ঘটেছে—

  • উৎপাদন খরচ বেড়েছে: সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে আলুর মূল্যে।
  • সংরক্ষণ ব্যয়: কোল্ড স্টোরেজে মজুদ খরচ বৃদ্ধির কারণে পাইকারি দাম বেড়েছে।
  • সিন্ডিকেট প্রভাব: কিছু ব্যবসায়ী বাজার নিয়ন্ত্রণে রেখে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াচ্ছে।
  • চাহিদার বৃদ্ধি: স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে আলুর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।

পাইকারি বনাম খুচরা বাজার

অনেকেই অবাক হন যে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, খুচরা বাজারে আলুর যৌক্তিক দাম হওয়া উচিত ২৮ টাকা কেজি। কিন্তু বাস্তবে তা দ্বিগুণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

  • পাইকারি বাজারে দাম: ৩০ – ৩৫ টাকা প্রতি কেজি।
  • খুচরা বাজারে দাম: ৫০ – ৬০ টাকা প্রতি কেজি।

এই ব্যবধানই প্রমাণ করে যে মধ্যস্বত্বভোগীরা বড় অঙ্কের মুনাফা করছে।

বস্তায় আলুর দাম

সাধারণত এক বস্তায় থাকে ৪০ কেজি আলু। বর্তমান দরের হিসাবে—

  • সর্বনিম্ন: ২১৬০ টাকা (প্রতি কেজি ৫৪ টাকা ধরে)
  • সর্বোচ্চ: ২৪০০ টাকা (প্রতি কেজি ৬০ টাকা ধরে)

নতুন আলুর বাজার দর

বাংলাদেশে প্রতি বছর শীত মৌসুমে নতুন আলুর বাজারে আগমন ঘটে। ২০২৬ সালের মৌসুমে নতুন আলুর দাম প্রত্যাশিত ৬০ – ৭০ টাকা প্রতি কেজি। তবে প্রাথমিকভাবে দাম বেশি থাকলেও সরবরাহ বাড়লে তা কিছুটা কমে আসে।

ভোক্তাদের উপর প্রভাব

আলুর দাম বৃদ্ধির কারণে সরাসরি ভোক্তাদের দৈনন্দিন খরচ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো বেশি ভুক্তভোগী।

  • হোটেল-রেস্তোরাঁ খরচ: খাবারের দাম বেড়ে যায়।
  • পরোক্ষ প্রভাব: চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, স্ন্যাকসসহ আলুভিত্তিক পণ্যের দামও বাড়ে।

ভবিষ্যতে আলুর দাম কি আরও বাড়বে?

আলুর দাম স্থিতিশীল থাকবে নাকি আরও বাড়বে তা নির্ভর করছে কিছু মূল বিষয়ের উপর—

  1. আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বন্যা বা খরায় উৎপাদন ব্যাহত হলে দাম বাড়তে বাধ্য।
  2. সরকারি পদক্ষেপ: আমদানি শুল্ক হ্রাস বা সরাসরি আমদানি করলে দাম কমতে পারে।
  3. রপ্তানি: বিদেশে চাহিদা থাকলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে যায়।
  4. সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ: যদি বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা না যায়, তবে দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।

আলুর দামের প্রতিদিনের আপডেট কিভাবে জানবেন?

বাংলাদেশ সরকারের নির্ধারিত ওয়েবসাইটগুলো প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম প্রকাশ করে।

  • বাজার দর ওয়েবসাইট: tcbbazardor.com
  • কৃষি বিপণন অধিদপ্তর: dam.gov.bd

এই লিংকগুলো ভিজিট করলে দৈনিক আলুর দাম সহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম জানা যাবে।

শেষ কথা

বাংলাদেশে আলু শুধু একটি সবজি নয়, বরং খাদ্য নিরাপত্তার একটি বড় অংশ। তবে উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা না থাকায় দাম বারবার ওঠানামা করছে। খুচরা বাজারে ভোক্তারা আসলেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, কারণ যৌক্তিক মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে তাদের কিনতে হচ্ছে।

ভবিষ্যতে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে সরকারের নজরদারি বাড়ানো, সিন্ডিকেট ভাঙা, আমদানির সুযোগ রাখা এবং কোল্ড স্টোরেজ ব্যবস্থাপনায় উন্নতি আনা জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top