বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাচ্ছে। উন্নত জীবনমান, উচ্চ আয় এবং নিরাপদ কর্মসংস্থান পাওয়ার আশায় আমাদের দেশের যুবকরা বিশেষভাবে কুয়েতকেই বেছে নিচ্ছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, কুয়েত ভিসা সম্পর্কিত সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য অধিকাংশ মানুষ জানে না। ফলে অনেকেই প্রতারণার শিকার হয় বা অপ্রয়োজনীয় বাড়তি খরচ করতে হয়।
এই দীর্ঘ আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে আলোচনা করবো কুয়েত ভিসার দাম কত ২০২৬ সালে, কুয়েত যেতে কত টাকা লাগে, কাগজপত্র কী কী প্রয়োজন, আবেদন করার নিয়ম, কুয়েতে কোন কাজের চাহিদা বেশি, বেতন কাঠামো, বয়স সীমা এবং আরো অনেক কিছু।
এই লেখা হবে একটি সম্পূর্ণ কুয়েত ভিসা গাইডলাইন ২০২৬ – যাতে নতুন করে কেউ ভিসার জন্য আবেদন করতে চাইলে একেবারে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব তথ্য পেয়ে যাবে।
কুয়েত ভিসার দাম কত ২০২৬ সাল
কুয়েত ভিসার খরচ নির্ভর করে ভিসার ক্যাটাগরির উপর। সাধারণত তিন ধরণের ভিসা বাংলাদেশি নাগরিকরা কুয়েতের জন্য আবেদন করতে পারে –
- ওয়ার্ক পারমিট ভিসা (কাজের ভিসা)
- টুরিস্ট ভিসা (ভ্রমণ ভিসা)
- স্টুডেন্ট ভিসা (শিক্ষার্থী ভিসা)
বাংলাদেশিদের অধিকাংশই কুয়েতে যায় কাজের ভিসা নিয়ে।
🔹 ২০২৬ সালের হিসেব অনুযায়ী কুয়েত কাজের ভিসার দাম ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত।
🔹 পর্যটন ভিসার খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম, তবে সেটি সীমিত মেয়াদের জন্য।
🔹 স্টুডেন্ট ভিসার খরচ নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়, টিউশন ফি ও অন্যান্য ব্যয়ের উপর।
বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে যেতে মোট কত টাকা খরচ হয়?
শুধু ভিসার দামই নয়, কুয়েতে যেতে অন্যান্য খরচও ধরতে হবে। সাধারণভাবে একজন বাংলাদেশিকে কুয়েতে যেতে ন্যূনতম ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। তবে এই খরচ কয়েকটি বিষয়ে নির্ভর করে –
- আপনি সরকারি অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে যাচ্ছেন নাকি দালাল বা প্রাইভেট এজেন্সির মাধ্যমে যাচ্ছেন।
- আপনার আত্মীয় বা পরিবারের কেউ কুয়েতে কর্মরত থাকলে খরচ অনেকটাই কমে যাবে।
- কোন সেক্টরে কাজ করবেন, এবং কোম্পানি কতটুকু খরচ বহন করবে।
সরকারি এজেন্সির মাধ্যমে গেলে খরচ তুলনামূলকভাবে কম।
দালালের মাধ্যমে গেলে প্রায় ১-২ লক্ষ টাকা বেশি খরচ হয়।
কুয়েত ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
কুয়েত ভিসার আবেদন করতে হলে কিছু ডকুমেন্ট বা কাগজপত্র জমা দিতে হবে। সঠিক কাগজপত্র ছাড়া ভিসা প্রক্রিয়া শুরু হবে না।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা:
- পূরণকৃত কুয়েত কাজের ভিসা আবেদন ফরম
- সর্বনিম্ন ৬ মাসের মেয়াদী বৈধ পাসপোর্ট
- পাসপোর্ট সাইজের সদ্যতোলা ছবি (রঙিন)
- মেডিকেল রিপোর্ট (স্বাস্থ্য পরীক্ষা সনদ)
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট (সাম্প্রতিক)
- করোনা ভ্যাকসিনের সনদপত্র
- কুয়েত জব অফার লেটার (কাজের প্রমাণপত্র)
কুয়েত কাজের ভিসার আবেদন করার ধাপে ধাপে নিয়ম
বর্তমানে অনেক প্রতারণার ঘটনা ঘটছে, তাই আবেদন করার সময় অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। আপনি চাইলে ঘরে বসেই অনলাইনে কুয়েত ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।
অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া
- প্রথমে কুয়েত এম্বাসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এ যান।
- সেখান থেকে আবেদন ফরম অপশন নির্বাচন করুন।
- আপনার সঠিক তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করুন (ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে ভিসা বাতিল হবে)।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করুন।
- ফরম পূরণের পর সাবমিট করুন।
যাদের অনলাইনে আবেদন করতে সমস্যা হয় তারা সরাসরি বাংলাদেশে অবস্থিত কুয়েত দূতাবাসে যোগাযোগ করতে পারেন।
বাংলাদেশে কুয়েত দূতাবাসের ঠিকানা ও যোগাযোগ
- ঠিকানা: হাউস নং ১৬, রোড নং ৪, বারিধারা, ঢাকা ১২১২, বাংলাদেশ।
- টেলিফোন: (+880) 2 882-2700 to 3
- ইমেইল: kuwait_embd@yahoo.com
কুয়েতে কোন ধরনের কাজের চাহিদা বেশি?
কুয়েতে প্রায় সব ধরনের কাজের চাহিদা থাকলেও বিশেষ কিছু সেক্টরে বাংলাদেশিদের জন্য কর্মসংস্থান বেশি তৈরি হয়। দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীদের চাহিদা সবসময় বেশি।
চাহিদাসম্পন্ন কাজের তালিকা:
- ইলেকট্রিশিয়ান
- নির্মাণ শ্রমিক
- ড্রাইভার
- ক্লিনার
- ডেলিভারি ম্যান
- বিক্রয় প্রতিনিধি
- কৃষিকাজ
- কোম্পানির বিভিন্ন কাজ
- হোটেল ও রেস্টুরেন্ট জব
কুয়েতে গড় বেতন কাঠামো ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের তুলনায় কুয়েতে গড় বেতন তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে বেতন নির্ভর করে কাজের ধরন, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার উপর।
- নতুন কর্মীর প্রাথমিক মাসিক বেতন: ৫০,০০০ – ৬০,০০০ টাকা (BDT)
- অভিজ্ঞ কর্মীদের মাসিক বেতন: ৭০,০০০ – ৮০,০০০ টাকা (BDT)
- দক্ষ টেকনিক্যাল কর্মী ও বিশেষজ্ঞরা আরও বেশি উপার্জন করতে পারেন।
কুয়েত ভিসার জন্য বয়স সীমা ২০২৬
- ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: আবেদনকারীর বয়স হতে হবে সর্বনিম্ন ২১ বছর এবং সর্বোচ্চ ৩৫ বছর।
- টুরিস্ট ভিসা: বয়সের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।
কুয়েত ভিসা বন্ধ না খোলা – বর্তমান অবস্থা
করোনাকালীন সময়ে কিছু সময়ের জন্য কুয়েত ভিসা বন্ধ ছিল। তবে বর্তমানে ২০২৬ সালে কুয়েত ভিসা সম্পূর্ণভাবে চালু রয়েছে।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
প্রশ্ন: বর্তমানে কুয়েত কাজের ভিসার দাম কত?
উত্তর: বর্তমানে ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা।
প্রশ্ন: কুয়েতে সর্বনিম্ন বেতন কত?
উত্তর: নতুন কর্মীদের জন্য মাসিক ৫০,০০০ – ৬০,০০০ টাকা।
প্রশ্ন: দালালের মাধ্যমে গেলে খরচ কত বাড়ে?
উত্তর: সাধারণত ১-২ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়।
শেষ কথা
বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে কাজের উদ্দেশ্যে যেতে চাইলে অবশ্যই সঠিক তথ্য জেনে এবং সরকারি অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এতে খরচও কম হবে এবং প্রতারণার ঝুঁকিও থাকবে না।
২০২৫ সালে কুয়েত কাজের ভিসার দাম ৫-৭ লক্ষ টাকা।
ন্যূনতম বয়স হতে হবে ২১ বছর।
মাসিক গড় বেতন ৫০-৮০ হাজার টাকা।
কুয়েতে যাওয়ার আগে অবশ্যই আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাড়ান। দক্ষ কর্মীদের জন্য সুযোগ এবং আয় দুই-ই বেশি।



