বর্তমান সময়ের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং একটি নিত্যদিনের বাস্তবতা। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে যখন হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যায়, তখন একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় চার্জার ফ্যান। বিশেষত পরিবারে শিশু, বয়স্ক বা অসুস্থ কেউ থাকলে এই ফ্যানগুলো হয়ে ওঠে অপরিহার্য। কিন্তু বাজারে এত ব্র্যান্ড ও মডেলের ভিড়ে কোনটি সঠিক হবে, আর দাম কতটা হতে পারে—এসব নিয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা থাকে না।
এই দীর্ঘ প্রতিবেদনে আমরা ২০২৬ সালের সুপার স্টার চার্জার ফ্যানের দাম, সেইসাথে ওয়ালটন, ভিশন, সিঙ্গার, ডিফেন্ডার, সানকা এবং মিনি চার্জার ফ্যানের দাম ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিশদ আলোচনা করব।
সুপার স্টার চার্জার ফ্যানের দাম ২০২৬
বাংলাদেশে চার্জার ফ্যানের বাজারে সুপার স্টার একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম। টেকসই ব্যাটারি, মসৃণ বাতাস এবং আধুনিক ডিজাইনের কারণে এই ব্র্যান্ডের ফ্যানের চাহিদা সবসময় বেশি।
২০২৬ সালে সুপার স্টার চার্জার ফ্যানের দাম সাধারণত ৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ৫,৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ছোট টেবিল ফ্যান থেকে শুরু করে বড় ওয়াল ফ্যান পর্যন্ত বিভিন্ন ধরণের মডেল পাওয়া যায়।
জনপ্রিয় মডেল ও দাম
- Super Star 14 Inch DC 12V 12W Solar Table Fan – প্রায় ২,১৯৯ টাকা
- Super Star Solar DC Table Fan 14 Inch – প্রায় ২,২৫০ টাকা
- Super Star Wall Fan 16″ – প্রায় ২,৬৮০ টাকা
- Super Star Rechargeable Table Fan 12 inch – প্রায় ৫,৪৫০ টাকা
সর্বশেষ আপডেটেড দাম জানতে দারাজ, আজকের ডিল, অথবা সুপার স্টারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট চেক করতে পারেন।
মিনি চার্জার ফ্যানের দাম
যারা কম বাজেটে একটি ছোট চার্জার ফ্যান খুঁজছেন, তাদের জন্য মিনি চার্জার ফ্যান বেশ জনপ্রিয়। বিশেষত ভ্রমণে, অফিস ডেস্কে বা শিশুদের জন্য এটি আদর্শ।
- সাধারণত দাম থাকে ১০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
- ছোট আকারের কারণে এগুলোর ব্যাটারি ব্যাকআপ কিছুটা কম হয়।
- তবে ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকার মডেলগুলোতে প্রায় ৩–৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যায়।
এই ফ্যানগুলো সহজে বহনযোগ্য এবং বিদ্যুৎ না থাকলেও সামান্য বাতাসের চাহিদা মেটাতে কার্যকর।
ওয়ালটন চার্জার ফ্যানের দাম
বাংলাদেশের গর্ব ওয়ালটন ইলেকট্রনিকস চার্জার ফ্যান সেগমেন্টেও নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। টেকসই ব্যাটারি, স্টাইলিশ ডিজাইন এবং দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্সের কারণে অনেকেই ওয়ালটনকে প্রথম পছন্দ করেন।
- ২০২৬সালে ওয়ালটন চার্জার ফ্যানের দাম সাধারণত ২,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকার মধ্যে।
- শোরুমে কিছু বিশেষ অফারে দাম ২,৫০০ থেকে ৬,০০০ টাকার মধ্যেও পাওয়া যায়।
- ওয়ালটন ফ্যান দীর্ঘ সময় ব্যাকআপ দেওয়ার পাশাপাশি টেকসই মোটর এবং উন্নত প্লাস্টিকের ব্লেড ব্যবহার করে।
যারা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার এবং গুণগত মানকে গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য ওয়ালটন একটি নির্ভরযোগ্য পছন্দ।
ভিশন চার্জার ফ্যানের দাম ২০২৬
ভিশন ব্র্যান্ড তাদের ইলেকট্রনিক্স পণ্যে ক্রমাগত উন্নয়ন এনেছে। চার্জার ফ্যানও এর ব্যতিক্রম নয়।
- ভিশন চার্জার ফ্যানের দাম সাধারণত ৩,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকার মধ্যে।
- ব্যাটারির ব্যাকআপ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ হয় এবং এনার্জি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
- ডিজাইনে আধুনিকতা থাকায় অনেকেই ভিশন ফ্যানকে ফ্যাশনেবল ও ব্যবহারিক মনে করেন।
ভিশন শোরুম ও অনলাইন স্টোর থেকে সর্বশেষ মডেল সংগ্রহ করা সম্ভব।
ডিফেন্ডার চার্জার ফ্যানের দাম ২০২৬
ডিফেন্ডার ফ্যান মূলত বাজেট-ফ্রেন্ডলি গ্রাহকদের জন্য একটি ভালো সমাধান।
- দাম শুরু হয় প্রায় ১,০০০ টাকা থেকে এবং সর্বোচ্চ ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত যায়।
- সাধারণত স্ট্যান্ড ফ্যান, টেবিল ফ্যান এবং ওয়াল ফ্যান মডেল পাওয়া যায়।
- যারা সাশ্রয়ী বাজেটে ভালো মানের একটি ফ্যান চান, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত।
সিঙ্গার চার্জার ফ্যানের দাম ২০২৬
সিঙ্গার একটি পুরনো এবং জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড। চার্জার ফ্যানের বাজারেও তাদের সুনাম রয়েছে।
- দাম থাকে প্রায় ২,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকার মধ্যে।
- সময় সময় ডিসকাউন্ট অফার দেয়, যা অনেক গ্রাহককে আকর্ষণ করে।
- ফ্যানগুলোর ব্যাটারি ব্যাকআপ দীর্ঘস্থায়ী এবং স্পেয়ার পার্টস সহজলভ্য।
সানকা চার্জার ফ্যানের দাম বাংলাদেশে
সানকা ব্র্যান্ডের চার্জার ফ্যান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
- দাম সাধারণত ৪,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকার মধ্যে।
- ১৬ ইঞ্চি সানকা চার্জার ফ্যানের দাম প্রায় ৬,৮০০ টাকা।
- টেকসই মান এবং শক্তিশালী বাতাস দেওয়ার কারণে এর দাম কিছুটা বেশি হলেও ক্রেতাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছে।
চার্জার ফ্যান কেনার সময় করণীয় ও সতর্কতা
চার্জার ফ্যান কেনার আগে শুধু দামই নয়, আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা উচিত:
- ব্যাটারি ব্যাকআপ – অন্তত ৪–৫ ঘণ্টা ব্যাকআপ দেয় এমন ফ্যান কিনুন।
- মডেল ও সাইজ – টেবিল ফ্যান, ওয়াল ফ্যান বা স্ট্যান্ড ফ্যান—আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচন করুন।
- ব্র্যান্ড রেপুটেশন – সুপরিচিত ব্র্যান্ড থেকে কিনলে সার্ভিস ও স্পেয়ার পার্টসের নিশ্চয়তা বেশি থাকে।
- ওয়ারেন্টি – অন্তত ১ বছরের ওয়ারেন্টি আছে কি না দেখে নিন।
- সোলার সাপোর্ট – বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে অনেক ফ্যান এখন সোলার চার্জিং সাপোর্ট করে।
শেষ কথা
লোডশেডিংয়ের সময়ে স্বস্তির বাতাস দিতে চার্জার ফ্যান এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং একটি প্রয়োজনীয়তা। ২০২৬ সালে বাংলাদেশি বাজারে সুপার স্টার, ওয়ালটন, ভিশন, সিঙ্গার, ডিফেন্ডার ও সানকা ব্র্যান্ড ভিন্ন ভিন্ন দামে ও বৈশিষ্ট্যে চার্জার ফ্যান সরবরাহ করছে।
যারা কম বাজেটে কিনতে চান তাদের জন্য মিনি ফ্যান বা ডিফেন্ডার ভালো পছন্দ, আবার যারা দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহার ও ব্র্যান্ড ভ্যালু চান তারা ওয়ালটন, ভিশন বা সুপার স্টার বেছে নিতে পারেন।



