বাংলাদেশের খাদ্যসংস্কৃতিতে পোলাও ও বিরিয়ানি এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যেকোনো উৎসব, অতিথি আপ্যায়ন কিংবা বিশেষ পারিবারিক অনুষ্ঠানে এই দুটি খাবার অপরিহার্য। আর এই দুটি রন্ধনপ্রণালীর মূল উপাদানই হলো বাসমতি চাল—এর অনন্য সুবাস, দানার দৈর্ঘ্য ও হালকা মোলায়েম টেক্সচারের কারণে এটি আলাদা মর্যাদা অর্জন করেছে।
তবে বাজারে আজকাল বাসমতি চালের নানা ধরন, ব্র্যান্ড ও মানভেদে দামেও বিপুল পার্থক্য দেখা যায়। এই নিবন্ধে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব বাসমতি চালের দাম ২০২৬ সালে বাংলাদেশে কত, পাকিস্তানি ও দেশীয় বাসমতি চাউলের পার্থক্য, বিভিন্ন কোম্পানির দামতালিকা, এবং চাল কেনার সঠিক উপায় নিয়ে।
বাসমতি চালের বাজারে বিভিন্ন ধরন
বাংলাদেশে বাজারে মূলত দুই প্রকার বাসমতি চাল পাওয়া যায় —
১. খোলা বাসমতি চাল
২. প্যাকেটজাত বাসমতি চাল
খোলা বাসমতি চাল
এই ধরনের চাল সাধারণত বড় বস্তা থেকে কেজি অনুযায়ী বিক্রি করা হয়। অনেক ব্যবসায়ী পাকিস্তান বা ভারত থেকে আমদানি করে পাইকারি দরে বিক্রি করেন।
সুবিধা:
- দাম তুলনামূলক কম
- বড় পরিমাণে কেনা যায়
অসুবিধা: - মানের নিশ্চয়তা সবসময় থাকে না
- নকল বা নিম্নমানের চাল মিশ্রিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে
প্যাকেটজাত বাসমতি চাল
এটি ব্র্যান্ডেড কোম্পানির প্যাকেটজাত রূপে বিক্রি হয়। যেমন: কোহিনুর, ফরচুন, প্রাণ, রূপচাঁদা ইত্যাদি।
সুবিধা:
- মান নিয়ন্ত্রিত
- সুগন্ধ ও দানার সমতা বজায় থাকে
অসুবিধা: - দাম তুলনামূলক বেশি
বাসমতি চালের বর্তমান বাজারদর ২০২৬
২০২৬ সালে বাংলাদেশে খাদ্যদ্রব্যের সামগ্রিক মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই প্রভাব পড়েছে চালের বাজারেও। বিশেষ করে বাসমতি চাল, যা আমদানি নির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ও ডলারের বিনিময় হার অনুযায়ী দাম ওঠানামা করছে।
নিচে বর্তমান গড় দামগুলো তুলে ধরা হলো:
| চালের ধরন | প্রতি কেজির দাম (টাকা) | মন্তব্য |
|---|---|---|
| খোলা বাসমতি চাল | ২০০ – ২৫০ | স্থান ও মানভেদে পার্থক্য |
| প্যাকেটজাত বাংলাদেশি বাসমতি চাল | ৩০০ – ৩২০ | জনপ্রিয় ব্র্যান্ড অনুযায়ী |
| পাকিস্তানি বাসমতি চাল | ৩০০ – ৩৫০ | আমদানিকৃত প্রিমিয়াম চাল |
২৫ কেজি ও ৫০ কেজি বাসমতি চালের পাইকারি দাম
অনেক রেস্টুরেন্ট, হোটেল বা ক্যাটারিং ব্যবসায়ীরা বড় পরিমাণে চাল ক্রয় করেন। এজন্য ২৫ কেজি বা ৫০ কেজি বস্তা ক্রয় করাই সবচেয়ে সাশ্রয়ী।
| ওজন | খোলা চালের দাম (৳) | প্যাকেটজাত চালের দাম (৳) | পাকিস্তানি চালের দাম (৳) |
|---|---|---|---|
| ২৫ কেজি | ৫০০০ – ৬০০০ | ৬০০০ – ৬৫০০ | ৭০০০ – ৭৫০০ |
| ৫০ কেজি | ১০,০০০ – ১১,০০০ | ১২,০০০ – ১৩,০০০ | ১৫,০০০ – ১৬,০০০ |
এই দামগুলো অঞ্চলভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। রাজধানী ঢাকায় দাম তুলনামূলক বেশি হলেও, জেলা শহর বা পাইকারি বাজারে কিছুটা কম দামে পাওয়া যায়।
শেষ কথা
বাসমতি চাল শুধু এক প্রকার খাদ্য নয়—এটি এক ধরণের রন্ধন সংস্কৃতির প্রতীক। এর ঘ্রাণ, রঙ, টেক্সচার ও স্বাদ মিলিয়ে এটি অন্য যেকোনো চালের তুলনায় অনন্য।
২০২৬ সালে যদিও বাসমতি চালের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবুও এর প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি। কারণ, উৎসবের খাবারে, অতিথি আপ্যায়নে কিংবা রেস্টুরেন্টের বিশেষ ডিশে বাসমতি চালের বিকল্প নেই।
যদি আপনি বাসমতি চাল কিনতে চান, তাহলে মান যাচাই করে, ব্র্যান্ড ও উৎস দেখে, প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণে ক্রয় করুন। এতে আপনি শুধু সাশ্রয়ী দামেই কিনতে পারবেন না, বরং প্রতিবার রান্নায় পাবেন নিখুঁত সুবাস, স্বাদ ও আনন্দের স্পর্শ।



