লিথুনিয়া, বাল্টিক সাগরের তীরে অবস্থিত একটি অনন্য সৌন্দর্যমণ্ডিত দেশ, যা ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং আধুনিক অর্থনৈতিক উন্নতির কারণে ক্রমেই বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের আকর্ষণ কেড়ে নিচ্ছে। অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং চাকরিপ্রার্থী আজ লিথুনিয়ার দিকে ঝুঁকছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই লিথুনিয়ার মুদ্রা, জীবনযাত্রার মান এবং বাংলাদেশের সাথে আর্থিক তুলনা জানাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লিথুনিয়ার মুদ্রা ইউরোর উত্থান ও বর্তমান অবস্থা
লিথুনিয়ার মুদ্রার ইতিহাস
লিথুনিয়া স্বাধীনতার পর একসময় “লিতাস” নামে একটি নিজস্ব মুদ্রা চালু করেছিল। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজীকরণের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে লিথুনিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরো (€) গ্রহণ করে। বর্তমানে লিথুনিয়ার সর্বত্র কেবলমাত্র ইউরো ব্যবহার করা হয়।
ইউরোর আন্তর্জাতিক অবস্থান
ইউরো হলো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মুদ্রা। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহু দেশের সরকারি মুদ্রা হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে এর মান তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। ফলে বাংলাদেশ থেকে কেউ লিথুনিয়া গেলে মুদ্রার মান নিয়ে তেমন অস্থিরতার সম্মুখীন হতে হয় না।
১ ইউরো বাংলাদেশের কত টাকা?
২০২৬ সালের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী—
- ১ ইউরো ≈ ১৪১.50 টাকা (বাংলাদেশি)
তবে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি, এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই মান প্রতিদিনই কিছুটা পরিবর্তিত হয়।
ইউরো থেকে টাকা রূপান্তরের সারণি
| ইউরো (€) | বাংলাদেশি টাকা (BDT) |
|---|---|
| ১ ইউরো | প্রায় ১৪১.৫০ টাকা |
| ১০ ইউরো | প্রায় ১,৩৪১ টাকা |
| ৫০ ইউরো | প্রায় ৬,৯০০ টাকা |
| ১০০ ইউরো | প্রায় ১৩,৮০০ টাকা |
| ১০০০ ইউরো | প্রায় ১,৩৮,০০০ টাকা |
এখান থেকে সহজেই বোঝা যায়, ইউরোর মূল্য বাংলাদেশের টাকার তুলনায় বহুগুণ বেশি। ফলে লিথুনিয়ায় কাজ করলে বা পড়াশোনা করার সময় খরচের পাশাপাশি আয়ও তুলনামূলকভাবে বেশি হবে।
শেষ কথা
লিথুনিয়া শুধু একটি ইউরোপীয় দেশ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনার দেশ। ইউরোর উচ্চ মূল্য, জীবনযাত্রার মান, এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাংলাদেশিদের জন্য এটিকে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে।



