বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক বা ধর্মীয় নয়; এটি জীবনের প্রয়োজনে, ধর্মীয় আচার পালনে, ব্যবসায়িক সংযোগে এবং পারিবারিক কারণে গড়ে উঠেছে গভীর এক সেতুবন্ধন। প্রতিবছর লাখ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে ভ্রমণ করেন। কারও উদ্দেশ্য জীবিকার সন্ধান, কারও জন্য হজ্ব ও উমরাহ পালন, আবার অনেকের জন্য ব্যবসায়িক বা পারিবারিক প্রয়োজন।
এই নিবন্ধে আমরা শুধুমাত্র বিমান ভাড়ার তথ্যই নয়, বরং ভাড়ার ওঠানামার কারণ, কোন কোন এয়ারলাইন্স বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে যাতায়াত করে, মৌসুমি চাহিদা কেমন হয়, এবং যাত্রীদের জন্য কার্যকর পরামর্শ—সবকিছু বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করবো। লক্ষ্য একটাই: ভ্রমণপিপাসু কিংবা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড তৈরি করা, যা যেকোনো সময় কাজে লাগবে।
বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের বিমান ভাড়া
১. ঢাকা থেকে জেদ্দা বিমান ভাড়া
ইকোনোমিক ক্লাস
- সর্বনিম্ন ভাড়া: ৪৫,০০০ টাকা
- সর্বোচ্চ ভাড়া: ৮৫,০০০ টাকা
বিজনেস ক্লাস
- সর্বনিম্ন ভাড়া: ১,১০,৫০০ টাকা
- সর্বোচ্চ ভাড়া: ১,৮০,৮৫০ টাকা
২. ঢাকা থেকে রিয়াদ বিমান ভাড়া
ইকোনোমিক ক্লাস
- সর্বনিম্ন ভাড়া: ৪৮,০০০ টাকা
- সর্বোচ্চ ভাড়া: ৮৯,০০০ টাকা
বিজনেস ক্লাস
- সর্বনিম্ন ভাড়া: ১,১৫,৪৫০ টাকা
- সর্বোচ্চ ভাড়া: ১,৯৫,০০০ টাকা
৩. ঢাকা থেকে মদিনা বিমান ভাড়া
ইকোনোমিক ক্লাস
- সর্বনিম্ন ভাড়া: ৪৬,৮৯০ টাকা
- সর্বোচ্চ ভাড়া: ৯৪,৫০০ টাকা
বিজনেস ক্লাস
- সর্বনিম্ন ভাড়া: ৯৯,৫৯০ টাকা
- সর্বোচ্চ ভাড়া: ১,৭৮,০০০ টাকা
৪. ঢাকা থেকে দাম্মাম বিমান ভাড়া
ইকোনোমিক ক্লাস
- সর্বনিম্ন ভাড়া: ৪৪,৯০০ টাকা
- সর্বোচ্চ ভাড়া: ৮৮,০৯০ টাকা
বিজনেস ক্লাস
- সর্বনিম্ন ভাড়া: ১,০৫,৬৯০ টাকা
- সর্বোচ্চ ভাড়া: ১,৯৯,৪৫০ টাকা
বিমান ভাড়া বৃদ্ধির মূল কারণ
১. মৌসুমি চাহিদা ও ধর্মীয় ভ্রমণ
প্রতি বছর রমজান ও হজ্ব মৌসুমে সৌদি আরবগামী যাত্রী সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায়। এই সময়ে উমরাহ ও হজ্ব পালনকারীরা টিকিট বুক করতে ঝুঁকে পড়েন। ফলে চাহিদা বেশি হওয়ায় বিমান ভাড়া বৃদ্ধি পায়।
২. উন্নত সেবা ও শ্রেণি ভেদ
বিজনেস ক্লাস ও প্রিমিয়াম ক্লাসের টিকিটের দাম সবসময় বেশি। কারণ এসব ফ্লাইটে যাত্রীরা উপভোগ করেন:
- প্রশস্ত ও আরামদায়ক সিট
- উচ্চমানের খাবার ও পানীয়
- উন্নত বিনোদন সুবিধা
- প্রায়োরিটি চেক-ইন ও ব্যাগেজ সেবা
৩. এয়ারলাইন্সভেদে ভাড়া পার্থক্য
প্রত্যেক এয়ারলাইন্স নিজস্ব নীতির ভিত্তিতে ভাড়া নির্ধারণ করে। বুকিংয়ের সময়, ভ্রমণের তারিখ ও বিশেষ অফার অনুসারে ভাড়ার তারতম্য হয়। সাধারণত আগে থেকে টিকিট বুক করলে তুলনামূলক কম ভাড়ায় ফ্লাইট পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে চলাচলকারী জনপ্রিয় এয়ারলাইন্স
১. বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স – দেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান, যা জেদ্দা, রিয়াদ ও দাম্মামে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে।
২. সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স (Saudia) – সৌদি আরবের সরকারি এয়ারলাইন্স, যার সেবা বিশ্বমানের।
৩. এমিরেটস এয়ারলাইন্স – দুবাইয়ের মাধ্যমে কানেক্টিং ফ্লাইট দিয়ে থাকে, সেবার মান অত্যন্ত উন্নত।
৪. ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স – বাজেট ফ্লাইট অপশন, মূলত সাশ্রয়ী ভাড়ার জন্য জনপ্রিয়।
৫. কুয়েত এয়ারওয়েজ – কুয়েতের রাজধানীর মাধ্যমে সৌদি কানেকশন।
৬. এয়ার এরাবিয়া – শারজাহ রুটে কানেক্টিং ফ্লাইট দেয়।
৭. ওমান এয়ারলাইন্স – মাস্কাট হয়ে রিয়াদ, জেদ্দা ও মদিনায় যাতায়াতের সুবিধা।
শেষ কথা
বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া নিয়মিত পরিবর্তিত হয়। কখনো ধর্মীয় মৌসুম, কখনো আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দাম, আবার কখনো এয়ারলাইন্সের নিজস্ব নীতি—সবকিছু মিলে টিকিটের মূল্য ওঠানামা করে। তাই ভ্রমণের আগে সর্বশেষ ভাড়া সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি।



