১ কেজি বাসমতি চালের দাম কত ২০২৬

বাংলাদেশে বাসমতি চালের জনপ্রিয়তা গত কয়েক বছরে অভূতপূর্বভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একসময় কেবলমাত্র অভিজাত পরিবার, বিশেষ রেস্তোরাঁ বা উৎসবের খাবারের জন্য সীমাবদ্ধ থাকলেও, বর্তমানে এটি সাধারণ গৃহস্থালির রান্নাঘরেও স্থান করে নিয়েছে। এর মুগ্ধকর সুবাস, স্নিগ্ধ স্বাদ, এবং দীর্ঘ, সরু দানার জন্য বাসমতি চালকে বলা হয় “চালের রাজা।” বিশেষ করে বিরিয়ানি, পোলাও, কাবাব, তেহারি কিংবা বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে বাসমতি চালের বিকল্প খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

বাসমতি চালের বৈশিষ্ট্য কেন এটি এত জনপ্রিয়?

বাসমতি চালের অনন্যতা কেবল দানার দৈর্ঘ্য বা চেহারায় সীমাবদ্ধ নয়। এতে রয়েছে কিছু প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, যা একে অন্য চালের থেকে ভিন্ন করে তোলে।

১. লম্বা ও সরু দানা

রান্নার আগে ও পরে বাসমতি চালের দানা আকারে দ্বিগুণ হয়। এটি সরু ও লম্বা হওয়ার কারণে ভাত আলাদা থাকে এবং আকর্ষণীয় দেখায়।

২. হালকা ও ফ্লাফি টেক্সচার

রান্নার পর দানাগুলো একে অপরের সঙ্গে লেগে থাকে না। ফলে বিরিয়ানি বা পোলাওয়ে দানার আলাদা সৌন্দর্য ও স্বাদ ফুটে ওঠে।

৩. স্বতন্ত্র সুবাস

বাসমতি চাল রান্নার সময় যেই মৃদু কিন্তু তীব্র সুবাস ছড়ায়, সেটিই একে অন্য চাল থেকে আলাদা করেছে। অনেক সময় এই সুবাসের কারণেই একে “রাজকীয় চাল” বলা হয়।

৪. আন্তর্জাতিক খ্যাতি

ভারত, পাকিস্তান, নেপাল প্রভৃতি দেশে বাসমতি চাল উৎপাদিত হয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাপকভাবে রপ্তানি হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে এর জনপ্রিয়তা বাংলাদেশেও চাহিদা বাড়িয়েছে।

২০২৬ সালে ১ কেজি বাসমতি চালের দাম

২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে বাসমতি চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

  • খোলা বাসমতি চাল: প্রতি কেজি ২০০ – ২২০ টাকা
  • প্যাকেটজাত বাসমতি চাল: প্রতি কেজি ২৫০ – ৩০০ টাকা
  • প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড (কহিনুর, ফরচুন ইত্যাদি): প্রতি কেজি ৩২০ টাকা পর্যন্ত

মূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, ডলারের দর বৃদ্ধি এবং দেশীয় বাজারে চাহিদার চাপ।

কহিনুর বাসমতি চালের দাম ২০২৬

কহিনুর বাসমতি চাল স্বাদ, সুবাস ও মানের জন্য বাংলাদেশের বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয়।

  • ১ কেজি কহিনুর: প্রায় ৩০০ টাকা
  • ৫ কেজি কহিনুর: প্রায় ১৪৫০ টাকা
  • ২৫ কেজি কহিনুর: ৭,০০০ – ৭,২০০ টাকা

🔎 সতর্কতা: বাজারে নকল কহিনুর ব্র্যান্ড পাওয়া যায়। তাই ক্রয়ের সময় অফিসিয়াল সিল, হলোগ্রাম বা QR কোড অবশ্যই যাচাই করুন।

ফরচুন বাসমতি চালের দাম ২০২৬

ফরচুন বাসমতি চাল বাংলাদেশের রেস্টুরেন্ট খাতে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

  • ১ কেজি ফরচুন: ৩০০ – ৩২০ টাকা
  • ৫ কেজি ফরচুন: প্রায় ১৫০০ টাকা
  • ২৫ কেজি ফরচুন: ৭,২০০ – ৭,৫০০ টাকা

ফরচুন চাল বিশেষ করে বিরিয়ানি হাউসগুলোতে ব্যাপক ব্যবহার হয় কারণ এর দানা বড়, রান্নার পর ঝরঝরে থাকে এবং স্বাদ অতুলনীয়।

অন্যান্য জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ও ভ্যারাইটি

বাংলাদেশের বাজারে আরও কিছু ব্র্যান্ড সমানভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে।

  • ৫ কেজি খোলা বাসমতি চাল: প্রায় ১০০০ টাকা
  • ৫ কেজি প্যাকেটজাত বাসমতি চাল: প্রায় ১৫০০ টাকা
  • ২৫ কেজি খোলা বাসমতি চাল: প্রায় ৫০০০ টাকা
  • ২৫ কেজি প্যাকেটজাত বাসমতি চাল: ৭৫০০ টাকা
  • ৫০ কেজি খোলা বাসমতি চাল: ১০,০০০ টাকা
  • ৫০ কেজি প্যাকেটজাত বাসমতি চাল: ১৫,০০০ টাকা

বিশেষ ব্র্যান্ড

  • পাকিস্তানি বাসমতি চাল: প্রতি কেজি ৩০০ – ৩২০ টাকা
  • প্রাণ বাসমতি চাল: প্রতি কেজি ৩০০ – ৩২০ টাকা

শেষ কথা

২০২৬ সালে বাংলাদেশের বাজারে বাসমতি চালের দাম প্রতি কেজি ২০০ টাকা থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডে ৩২০ টাকা পর্যন্ত গিয়েছে। কহিনুর ও ফরচুনের মতো শীর্ষ ব্র্যান্ডের দাম তুলনামূলক বেশি হলেও তাদের মান ও স্বাদ এখনো অপরাজেয়।

দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে ভোক্তাদের জন্য সচেতনতা জরুরি। ব্র্যান্ড যাচাই, দামের তুলনা এবং নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে কেনাকাটা করলে প্রতারণার ঝুঁকি কমবে এবং বাজেটও সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top